২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩০ সালে জলবায়ু ঝুঁকিতে শীর্ষে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

শেয়ার করুন

বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে যে ২০৩০ সালের মধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হবে বাংলাদেশ। জনঘনত্ব, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক অবস্থান এবং উপকূলীয় লবণাক্ততার মতো কারণগুলো বাংলাদেশের জীবন-জীবিকা ও অবকাঠামোকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।

‘ঝুঁকি থেকে স্থিতিস্থাপকতা: দক্ষিণ এশিয়ায় মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের অভিযোজনে সহায়তা’ শীর্ষক তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চরম তাপমাত্রা ও ঘনঘন বন্যার মুখোমুখি হবে। সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে সাধারণ পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর। দক্ষিণ এশিয়ার তিন-চতুর্থাংশের বেশি পরিবার ও প্রতিষ্ঠান আগামী ১০ বছরে জলবায়ুজনিত ধাক্কায় পড়তে পারে। যদিও ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ও ৮০ শতাংশ পরিবার কিছু অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তবে এগুলোর বেশিরভাগই কম খরচের এবং তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়।

বাংলাদেশের ২৫০টি উপকূলীয় গ্রামে পরিচালিত এক জরিপ দেখায়, পরিবর্তনশীল জলবায়ুতে খাপ খাইয়ে নিতে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৫৭ শতাংশ পরিবার দুর্যোগ-সুরক্ষা সুবিধার ঘাটতিকে বড় বাধা হিসেবে দেখছে, এবং ৫৬ শতাংশ পরিবার আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে প্রধান প্রতিবন্ধকতা বলে উল্লেখ করেছে। দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর ঝুঁকির প্রভাব আরও গভীর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি বিনিয়োগ—যেমন নদী ও উপকূল রক্ষা বাঁধ, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র—বহু প্রাণ বাঁচিয়েছে এবং ক্ষতি কমিয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এবং উন্নত তথ্যব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে দ্রুত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে সরকারি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতার কারণে বেসরকারি খাতকে সক্ষম করতে সমন্বিত নীতি সহায়তা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা বারবার পরীক্ষার মুখে। ঝুঁকি দ্রুত বাড়ায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি এবং ঝুঁকিভিত্তিক অর্থায়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শহরাঞ্চলেও লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের সহ-লেখক সিদ্ধার্থ শর্মা মন্তব্য করেন, জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেমন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উদাহরণ, তেমনি একটি বড় পরীক্ষার ক্ষেত্রও।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন