২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মামুনের কম সাজায় শহীদ পরিবারের অসন্তোষ

শেয়ার করুন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যরা। তবে এ মামলায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের সাজা কম হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর রায় ঘোষণার পর শহীদ পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ছিল এমনই।

জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, রায় শুনে আংশিক স্বস্তি মিলেছে, তবে বাকি শহীদ পরিবারগুলো যেন ন্যায়বিচার পায়। তিনি দ্রুততম সময়ে ভারতের থেকে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানান। তার ভাষায়, “রায় কার্যকর হলে পুরো খুশি হব।”

শহীদ মীর মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, শেখ হাসিনা ও কামালের ফাঁসির রায় হলেও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পরিবারগুলো সম্পূর্ণ তৃপ্ত নয়। মুগ্ধর ভাই স্নিগ্ধ বলেন, মামুনের কম সাজা মেনে নেওয়া যায় না, এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

নিহত মিরাজের বাবা আব্দুর রব জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেই তার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে। একই দাবি জানিয়েছেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়াও, যিনি বলেছেন, মামুনের কম সাজা নিয়ে তারা আপত্তি জানাতে থাকবেন।

শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেমন্তী বলেন, সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে মাত্র পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে—এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট নন। তার দাবি, “তার অপরাধের তুলনায় পাঁচ বছর কিছুই নয়।”

রায় ঘোষণার পর পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে উল্লাস প্রকাশ করেন পরিবার ও স্থানীয়রা। মিষ্টি বিতরণ করে তারা জানায়, রায় কার্যকর করলেই প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।

শহীদ আবু সাঈদের ভাই রমজান আলী ও আবু হোসেনও একই দাবি জানান—শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্টদের দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।

রায় ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উল্লাস দেখা যায়। শহরে, বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করা হয়।

এনসিপি রংপুর মহানগরের নেতা আলমগীর নয়ন বলেন, জনগণের প্রত্যাশা রায়ে পূরণ হলেও যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর করতে হবে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলার অপরাধীরা যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি পায়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন