
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ করেছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের এসএসসি ও এইচএসসির সম্মিলিত সর্বনিম্ন জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫০। তবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এ সীমা কিছুটা শিথিল করে ৮ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ওয়েবসাইটে নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়। এতে বিএমডিসির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষর করেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের অবশ্যই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং উভয় পরীক্ষার সম্মিলিত জিপিএ হতে হবে ন্যূনতম ৮ দশমিক ৫০। একক পরীক্ষায় কারও জিপিএ ৪-এর কম হলে তিনি ভর্তি পরীক্ষার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। পাশাপাশি জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫০ জিপিএ থাকতে হবে।
সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তাদের এসএসসি (বা সমমানের দশম শ্রেণি) এবং এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ স্কেলে সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৮ দশমিক ৫০ পয়েন্ট এবং জীববিজ্ঞানে অন্তত ৩ দশমিক ৫০ পয়েন্ট থাকতে হবে। এককভাবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৪-এর নিচে হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
অন্যদিকে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। তাদের সম্মিলিত জিপিএ ন্যূনতম ৭ এবং জীববিজ্ঞানে জিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ ৩ দশমিক ৫০-এর কম হলে আবেদন অগ্রহণযোগ্য হবে।
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী—যেমন সকল উপজাতীয় ও পার্বত্য জেলার অ-উপজাতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সম্মিলিত জিপিএ ৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদেরও জীববিজ্ঞানে জিপিএ ৩ দশমিক ৫০ থাকতে হবে এবং একক পরীক্ষায় ৩ দশমিক ৫০-এর নিচে জিপিএ হলে আবেদন বাতিল হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই কেবল মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে ২০২২ সালের আগে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
‘ও’ লেভেল, ‘এ’ লেভেল বা বিদেশি শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীদের তাদের প্রাপ্ত ফলাফল স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশের মান অনুযায়ী সমতাকরণ করতে হবে।
নতুন নীতিমালা প্রকাশের মধ্য দিয়ে আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হলো বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় কঠোর মানদণ্ড মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থী নির্বাচনে সহায়ক হবে।
সিএনআই/২৫