২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা পালাননি, যেতে বাধ্য হয়েছিলেন

শেয়ার করুন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাননি, বরং পরিস্থিতির কারণে যেতে বাধ্য হয়েছেন— এমন দাবি করেছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আইনজীবী আমির হোসেন বলেন,

“অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, আমার আসামি পালিয়ে গেছেন। আমি বলেছি, তিনি পালিয়ে যাননি। শেখ হাসিনা এ দেশ ছাড়তে চাননি— এটা পত্রপত্রিকায়ও এসেছে। তিনি বলেছিলেন, ‘প্রয়োজনে আমাকে হত্যা করুন, আমি যাব না।’ কিন্তু পরিস্থিতি এমন ছিল যে তাকে যেতে বাধ্য হতে হয়েছে। তিনি হেলিকপ্টারে গেছেন, দেশের মানুষ দেখেছে— চোরের মতো পালাননি।”

তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণের জন্য একটি জাতি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করার প্রক্রিয়া থাকতে হয়। “যেমন হিটলার ইহুদিদের বিরুদ্ধে জেনোসাইড করেছিলেন। কিন্তু এই মামলায় সে ধরনের অপরাধের প্রমাণ মেলেনি,” যোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাদিপক্ষ যেমন ন্যায়বিচার চান, আসামিপক্ষও ন্যায়বিচার চায়। আদালতই সেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন, যা দেশ ও বিশ্বের মানুষ দেখবে।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসময় বিএনপির নেতা তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হন।’ সেই প্রসঙ্গ টেনে আমির হোসেন বলেন, “যে কারণে তিনি (তারেক রহমান) দেশে আসেননি, একই কারণে শেখ হাসিনাও আসেননি।”

তিনি দাবি করেন, “রাষ্ট্রপক্ষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই তারা স্বসম্মানে খালাস পাবেন বলে আশা করছি।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক খণ্ডনের শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন মামলার বিচারকার্য শেষ হয়। আগামী ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করবে।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন