২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয়ে সিরিজে সমতায় দক্ষিণ আফ্রিকা

শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক

রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের শেষ দিনে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরল প্রোটিয়ারা। চতুর্থ দিন সকালেই জয়ের মিশন শেষ করে মাঠ ছেড়েছে সফরকারীরা।

জয়ের পথে শুরুটা করেন অধিনায়ক আইডেন মার্করাম ও রায়ান রিকেলটন। দু’জনের জুটিতে দ্রুতই ৫০ রান যোগ হয়ে যায়। তবে ৪২ রান করে সাজঘরে ফেরেন মার্করাম। ৪৫ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ৮টি চার। ওই ওভারেই দ্বিতীয় আঘাত হানেন পাকিস্তানি স্পিনার নোমান আলি- শূন্য রানে ফেরান ট্রিস্টান স্টাবসকে।

তবে এরপর আর বিপদে পড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকা। রিকেলটন ২৯ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থেকে দলকে ১২.৩ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। অপরপ্রান্তে থাকা টনি ডি জরজি ব্যাট করার সুযোগই পাননি।

এর আগে প্রথম ইনিংসে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১১৩.৪ ওভারে ৩৩৩ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। অধিনায়ক শান মাসুদ ১৭৬ বলে করেন ৮৭ রান, মারেন ২টি চার ও ৩টি ছক্কা। ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক ৫৭, সাউদ শাকিল ৬৬ ও সালমান আলি আগা খেলেন ৪৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কেশব মহারাজ ছিলেন দুর্দান্ত- ৪২.৪ ওভারে ১০২ রানে নিয়েছেন ৭ উইকেট। সাইমন হার্মার নেন ২টি ও কাগিসো রাবাদা নেন ১টি উইকেট।

জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ৪০৪ রান, তাতে এগিয়ে যায় ৭১ রানে। দলের নিচের দিকের ব্যাটাররাই মূল ভরসা ছিলেন। সেনুরান মুথুসামি খেলেন ১৫৫ বলে অপরাজিত ৮৯ রানের ইনিংস। তাঁর সঙ্গে রাবাদা খেলেন ৬১ বলে ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস- চারটি চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো। ট্রিস্টান স্টাবস করেন ৭৬, টনি ডি জরজি করেন ৫৫ রান। পাকিস্তানের হয়ে আসিফ আফ্রিদি নেন ৬ উইকেট (৩৪.৩ ওভারে ৭৯ রান), নোমান আলি নেন ২টি এবং শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সাজিদ খান নেন একটি করে উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান শুরুতেই ধাক্কা খায়। ৯ রানে সাইমন হার্মারের বলে ফিরেন ইমাম-উল-হক। কিছুক্ষণ পরেই একই বোলারের বলে শূন্য রানে ফেরেন অধিনায়ক শান মাসুদ। ৬ ওভারের মধ্যেই স্কোরবোর্ডে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১৬/২। এরপর আবদুল্লাহ শফিকও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, রাবাদার বলে ৬ রান করে আউট হন তিনি। এরপর বাবর আজম ও সাউদ শাকিল দলকে কিছুটা স্থিতি দেন। ৪৪ রানের জুটিতে পাকিস্তান পেরোয় ৫০ রান। কিন্তু হার্মার আবারও ভাঙেন জুটি, ৪৩ বলে ১১ রান করা শাকিলকে ফেরান তিনি।

মোহাম্মদ রিজওয়ান এসে বাবরকে সঙ্গ দিতে থাকেন। কিছুটা সময় ধরে দু’জন পাকিস্তানকে এগিয়ে নিয়ে যান এবং লিডও এনে দেন। দিন শেষে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৩৫ ওভারে ৯৪/৪, বাবর ৪৯ ও রিজওয়ান ১৬ রানে অপরাজিত। চতুর্থ দিনে আবার মাঠে নেমে বাবর আজম পঞ্চাশ পূর্ণ করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি- ৮৭ বলে ৫০ রান করে ফেরেন হার্মারের বলে। কিছুক্ষণ পর রিজওয়ানও (৬৪ বলে ১৮) আউট হন, হার্মারের পঞ্চম শিকার হিসেবে।

এরপর পাকিস্তানের ইনিংস ভেঙে পড়ে একেবারে। নোমান আলি শূন্য রানে ফেরেন, শাহিন আফ্রিদি রান আউট, সালমান আলি আগা করেন ২৮, সাজিদ খান ১৩ রানে মহারাজের বলে আউট হয়ে যান। অবশেষে পাকিস্তান গুটিয়ে যায়। হার্মার নেন ৬ উইকেট (২০ ওভারে ৫০ রান), মহারাজ নেন ২টি এবং রাবাদা নেন ১টি উইকেট।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন