
যত বড় প্রভাবশালীই হোক গুমের সঙ্গে জড়িতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খুব দ্রুতই গুমের বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, একে একে প্রত্যেকে ধরা পড়বে, প্রত্যেকের বিচার হবে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘মায়ের ডাক’ এ সভার আয়োজন করে।
গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ অভিহিত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গুমের ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমরা আর সম্পৃক্ত হতে চাই না। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এর প্রকাশ্যে বিচার এবং শাস্তি হওয়া উচিত।’
এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতি কখনো পূরণ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ক্ষতিগুলো পূরণ করা যাবে না। পাশে তো দাঁড়াতে পারি, সাহস দিতে পারি। ভবিষ্যৎ নির্মাণের ব্যবস্থা রাষ্ট্র করতে পারে।’
গুমের ঘটনায় অভিযুক্তদের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়াবহ লোক জিয়া (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান), সে ধরা পড়েছে, তার বিচার হচ্ছে। আরেকজন ধরা পড়েছে দুবাইয়ে— বেনজীর (পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ)। তাদের যে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ছিল, তাদের যে অহংকার, দাম্ভিকতা ছিল, দেখুন, আল্লাহ ঠিক হাজির করছেন আদালতের সামনে, জনগণের সামনে। বিশ্বাস করি, একে একে প্রত্যেকে ধরা পড়বে, প্রত্যেকের বিচার হবে। আল্লাহ আমাদের সেটা দেখাবেন— আমি এটা বিশ্বাস করি।’
গুমের শিকার পরিবারগুলোর সন্তানদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘যদি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের ভাতা দেওয়া হতে পারে, তবে গুম হওয়া পরিবারগুলো কেন বঞ্চিত থাকবে?’
এ সময় তিনি আগামী বাজেটেই গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রাখবেন বলে জানান।