
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চীন এমন একটি দেশ, যা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, চীনের শিল্প, অবকাঠামো ও সেবা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। প্রধানমন্ত্রীর সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী জানান, চীনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে বিভিন্ন বিশ্বনেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তার বক্তব্য এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, সৌরবিদ্যুৎসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে কর-সুবিধা দেওয়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রিজভী দাবি করেন, অতীতের একমুখী পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তে বর্তমানে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারাই অনুসরণ করছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, বর্তমান কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এ সফর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, সাধারণ, গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখে নীতি নির্ধারণ করতে হবে। ছোট মুদিদোকানকে ভ্যাটের আওতায় আনার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আয় সীমিত। তবে যাদের কর দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে কিন্তু করের বাইরে রয়েছেন, তাদের করের আওতায় আনা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি দাবি করেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিএনপির জনপ্রিয়তায় কোনো ধস নামেনি।
এ সময় তিনি ভারতের কলকাতায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘উপমহাদেশের একজন খ্যাতিমান নেতার নামে থাকা সড়কের নাম পরিবর্তন রুচিবিরোধী কাজ।’