২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার
১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রো-ইসরায়েল রাজনীতিতে ধাক্কা, মামদানিপন্থী প্রার্থীদের জয়

শেয়ার করুন
ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান নেওয়া একাধিক প্রার্থী জয় পেয়েছেন। ছবি: আল জাজিরা থেকে নেওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাম্প্রতিক ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান নেওয়া একাধিক প্রার্থী জয় পেয়েছেন। এতে করে দেশটির প্রো-ইসরায়েল রাজনৈতিক বলয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে পরিবর্তিত জনমতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা অভিযান, একাডেমিক শাস্তি, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের রাজনীতিকদের আক্রমণ এবং বহিষ্কার অভিযানের মুখোমুখি হয়েছেন। সেই একই এলাকার প্রতিনিধিত্ব এখন এমন এক নেতার হাতে যেতে পারে, যিনি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের সংগঠক ছিলেন।

গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কের কংগ্রেসনাল প্রাইমারিতে বড় চমক দেখান দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার। কেফিয়াহ জড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো এই অভিবাসী অধিকারকর্মী প্রবীণ কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো এসপাইয়াতকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি নিজেকে অভিবাসন ব্যবস্থায় বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর সংগঠক এবং ‘ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার’ বিরুদ্ধে সোচ্চার কর্মী হিসেবে তুলে ধরেন।

শেভালিয়ারের পাশাপাশি মামদানির সমর্থিত আরও দুই প্রার্থীও জয় পেয়েছেন। সাবেক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার, যিনি ইসরায়েলে সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করেন, তিনি কট্টর প্রো-ইসরায়েল রাজনীতিক ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেন। এছাড়া ডেমোক্র্যাটিক সমাজতান্ত্রিক আইনপ্রণেতা ক্লেয়ার ভালদেজও একটি উন্মুক্ত আসনে জয়ী হন।

স্থানীয় পর্যায়েও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের কয়েকজন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে আবর কাওয়াস নিউইয়র্কের প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর হওয়ার পথে রয়েছেন।

অ্যাডভোকেসি গ্রুপ জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, নিউইয়র্কে গত রাত ছিল এক রাজনৈতিক ভূমিকম্প। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে নির্ভীক অবস্থান শুধু নৈতিক নয়, এটি এখন বিজয়ের পথও।

সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের সমাজবিজ্ঞান অধ্যাপক হেবা গোওয়ায়েদ বলেন, এই ফলাফল দেখিয়েছে যে মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলের সমালোচনা আর অগ্রহণযোগ্য বিষয় হিসেবে থাকছে না। তার মতে, এসব প্রার্থী ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে জিতেছেন, তা সত্ত্বেও নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোয় বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, নিউইয়র্কের এই ফলাফল ভবিষ্যতে দেশজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী রাজনীতির আরও বিস্তারের পথ খুলে দিতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে ইসরায়েলবিরোধী কণ্ঠ বাড়লেও মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তন আসবে না। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় প্রশাসনই ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছে।

তারপরও পর্যবেক্ষকদের মতে, নিউইয়র্কের এই নির্বাচন মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার সূচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সমর্থনের নীতিতে চাপ বাড়তে পারে।

 

শেয়ার করুন