

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উচ্চমান সহকারী নিজামুল কবিরের রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউন্টেন্ট) পদে পদায়নকে ঘিরে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা এই কর্মচারী দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে (শিক্ষাভবনে) দায়িত্ব পালনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও বহাল থেকে শেষ পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন লাভ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিজামুল কবির মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মচারী সমিতির দপ্তর সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় শিক্ষা প্রশাসনের নানা সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে তার প্রভাব ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায় , অতীতে মাউশির বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং বদলি-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগে সে সময় বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিক রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাকরি জীবনে একাধিকবার পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও নিজামুল কবির তা গ্রহণ না করে দীর্ঘদিন মাউশির এমপিও শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। তাদের দাবি, ওই শাখায় অবস্থান করে তিনি বিস্তৃত যোগাযোগ ও প্রভাববলয় গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সুবিধা অর্জন করেন।
নিজামুল কবিরের সম্পদ নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। পাশাপাশি নিজ জেলা বরিশালে প্রায় ৫০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে ।
শিক্ষা প্রশাসনের একাধিক সূত্রমতে, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও ডা. দীপু মনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন নিজামুল কবির।
পরবর্তীতে সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রাজধানীর বাইরে বদলি করা হলেও নিজামুল কবির শিক্ষাভবনেই বহাল ছিলেন।
বিষয়টি নিয়েও শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রশ্ন ও আলোচনা সৃষ্টি হয়।
সর্বশেষ ইডেন মহিলা কলেজে হিসাবরক্ষক পদে তার পদায়নকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে এবং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি এই পদায়ন নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নিজামুল কবিরের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।