
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় এবং অন্যান্য জরুরি খাতের খরচ মেটাতে অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন)। দেশটির উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিফেন ফেইনবার্গ সম্প্রতি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে ফোনালাপে এ অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু যুদ্ধ নয়, কৃষি খাত ও দুর্যোগ সহায়তার মতো বেসামরিক খাতেও এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব কংগ্রেসে পাঠানো হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন যুদ্ধকালীন ব্যয় অনুমোদন না হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পেন্টাগনের অর্থ সংকট দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং মেক্সিকো সীমান্তে সেনা মোতায়েনের কার্যক্রমও সীমিত করতে হতে পারে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির অংশ হিসেবে ওই সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন রয়েছে।
প্রস্তাবিত ৮০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অংশ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ক্রয়, সামরিক সদস্যদের বেতন ও যুদ্ধজাহাজ পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।
এর আগে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধের পেছনে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে যুদ্ধের প্রকৃত মোট ব্যয় কত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের একটি প্রস্তাব কংগ্রেসে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে।
এপ্রিল মাসে প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শুনানিতে হোয়াইট হাউসের বাজেট পরিচালক রাসেল ভট বলেন, ইরান যুদ্ধের মোট ব্যয়ের নির্দিষ্ট কোনো হিসাব তার কাছে নেই। তবে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেট প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন।
এদিকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুদ্ধ ব্যয় নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্ক বাড়ছে। অনেক মার্কিন নাগরিকের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে দেশে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে।
সমালোচকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক চাপের সময় বিদেশি যুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের মুখে পড়তে পারে।