
খেলাধুলা আমাদের প্রাণের আনন্দ জোগায়, শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। খেলায় অংশ না নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষের তর্কতর্কিও বাড়তি আনন্দ যোগ করে। প্রায় সারা বছরেই কোনো না কোনো খেলার আমেজ লেগেই থাকে। তবে অন্য যে কোনো সময় থেকে ফুটবল বিশ্বকাপ এলে উন্মাদনা বেড়ে যায়। এ সময়টায় অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন দল সাপোর্ট করে থাকেন। আর সে অনুযায়ী বাসা-বাড়ি, গাছ বা ছাদে পছন্দের দেশের পতাকা টাঙিয়ে থাকেন। কে কত বড় পতাকা বানালো বা কত উঁচুতে পতাকা টাঙাল, এ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের প্রতিযোগিতাও লক্ষ্য করা যায়। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা ফ্রান্স। পছন্দের দলের প্রতি সমর্থন জানাতে কোনো কমতি থাকে না। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ড্রইংরুম, সবখানেই জমে ওঠে ফুটবল আর প্রিয় দল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
প্রিয় দলের প্রতি এই নিখাদ ভালোবাসা বা আবেগ থাকাটা মোটেও অন্যায় নয়। খেলাকে ভালোবাসার এ সংস্কৃতি আমাদের বিনোদনের একটা বড় অংশ।
কিন্তু এই আকাশচুম্বী উন্মাদনার ভিড়ে মাঝেমধ্যে আমরা খুব মৌলিক একটি বিষয় ভুলে যাই। অন্য দেশের পতাকা ওড়ানোর হুজুগে অনেকেই নিজের প্রাণের লাল-সবুজ পতাকার কথা একদমই মনে রাখেন না। আবার কেউ কেউ পরম যত্নে প্রিয় দলটির পতাকা বিশাল আকারে টাঙালেও, নিজের দেশের পতাকাটি রাখেন একেবারেই ছোট আকারে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় দেখা যায়, বিদেশি পতাকার নিচে স্থান পায় আমাদের স্বাধীন দেশের পতাকা।
আমাদের মনে রাখা উচিত, যে কোনো কিছুর চেয়ে নিজের দেশের সম্মান ও মর্যাদা সবার আগে। ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এ লাল-সবুজ পতাকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও মর্যাদা রয়েছে।