
চট্টগ্রামের আনোয়ারা- বাঁশখালী-পেকুয়া-চকরিয়া- বদরখালীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত আনোয়ারা-বাঁশখালী-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ইদমনী) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় আলোচনার পর প্রায় ১ হাজার ১৮৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার এ প্রকল্প প্রস্তাব আগামীকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারা-বাঁশখালী-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (আর-১৭০) আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৫৮.২০ কিলোমিটার অংশকে জাতীয় মহাসড়কের মানে উন্নীত করা হবে। বর্তমান সড়কের প্রস্থ বৃদ্ধি করে উন্নত মানের প্রশস্ত সড়কে রূপান্তর করা হবে, যাতে যান চলাচল নিরাপদ ও দ্রুত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহাসড়ক উন্নয়নের জন্য মূল সড়কের কেন্দ্র থেকে উভয় পাশে প্রায় ৩৫ ফুট করে মোট ৭০ ফুট জায়গা অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকদের সরকার নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। এছাড়া সড়কের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সুবিধাজনক দিক বিবেচনায় সরলীকরণ বা সোজা করা হবে, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে এবং যাতায়াত আরও নিরাপদ হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. মোহাম্মদ উল্লাহ তুহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া ও চকরিয়ার হাট-বাজার থেকে সামুদ্রিক মাছ, লবণ, কৃষিপণ্য, শাকসবজি ও ফলমূল দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা সম্ভব হবে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও তদবির চালিয়ে আসেন জুলাই যোদ্ধা ও সমাজকর্মী মো. নিজাম উদ্দিন। স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের পর্যায়ে পৌঁছানো এবং অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে আসার পেছনে তার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কালাবিবির দিঘি থেকে চাঁনপুর পুরাতন ঘাঁটঘর এবং পেকুয়া সীমান্ত ব্রিজ হতে চকরিয়া-বদরখালী পর্যন্ত অংশে ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন রয়েছে। ফলে এসব এলাকায় সড়ক উন্নয়ন কাজ দ্রুত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বাঁশখালী অংশে উচ্ছেদ, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে কিছু জটিলতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব সমস্যার সমাধান করে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, একনেকে অনুমোদন পেলে বহুদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।