২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার
১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্তে ‘পুশইন’ বন্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের দাবি ইসলামী আন্দোলনের

শেয়ার করুন

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নারী-শিশুসহ ১৩ জনকে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, সীমান্তে মানুষ পুশইনের মতো বর্বর ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অন্তত ১৩ জনকে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। এছাড়া গত ২৮ মে রাতে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে ১০০ থেকে ১১০ জনকে জড়ো করার ঘটনাও উদ্বেগজনক। এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত রীতিনীতির পরিপন্থী।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমের আওতায় পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া এবং নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হলেও এর প্রভাব এখন বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। ফলে বিষয়টি আর শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু নয়, বরং আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহন করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের মতো নতুন কোনো মানবিক সংকটে জড়াতে চায় না। কয়েকজনকে পুশইনের ঘটনা বলে বিষয়টিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত, কার্যকর ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বিষয়টি উত্থাপন করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা আরও বলেন, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করলে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ফেরত পাঠানো যেতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিয়ম উপেক্ষা করে মানুষকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অমানবিক। বাংলাদেশ এ ধরনের আচরণ মেনে নেবে না।

বিবৃতিতে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারকে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

শেয়ার করুন