
প্লেটে উপচে পড়া হরেক রকম খাবার; আমাদের ঘরোয়া অনুষ্ঠান বা রেস্তোরাঁগুলোতে এটি এখন খুব পরিচিত দৃশ্য। গত ৫০ বছরে বিশ্বের অনেক জায়গায় মানুষের পাতে খাবারের পরিমাণ যেমন বেড়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্থূলতার হার। অনেক সময় আমরা প্রয়োজন ছাড়াই শুধু অভ্যাসবশত বা পরিবেশের চাপে বেশি খেয়ে ফেলি। তবে কিছু সচেতন পদক্ষেপ নিলে এই অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
১. বড় পরিমাণের ফাঁদ থেকে সাবধান
গবেষণায় দেখা গেছে, চোখের সামনে যখন বড় পরিমাণে খাবার পরিবেশন করা হয়, তখন মানুষ সাধারণত ৩৫ শতাংশ বেশি খাবার গ্রহণ করে। রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে অনেক সময় অল্প দামে ‘বিগ অফার’ বা বড় আকারের খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়। ড. লিসা ইয়ংয়ের মতে, একে বলা হয় ‘পোর্শন ডিস্টরশন’ বা পরিমাণের বিকৃতি, যেখানে আমরা বড় পরিমাণ খাবারকেই স্বাভাবিক মনে করতে শুরু করি।
২. ক্ষুধার সংকেত বুঝতে শিখুন
অতিরিক্ত খাওয়ার একটি বড় কারণ হলো আমাদের দেহ সবসময় সঠিক সংকেত দিতে পারে না। অধ্যাপক লেনি ভার্টানিয়ান জানান, আমরা সাধারণত খুব বেশি ক্ষুধার্ত বা খুব বেশি তৃপ্ত—এই দুই অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থায় থাকি এবং তখন নানা বাইরের সংকেত দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বেশি খেয়ে ফেলি। তাই তৃপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করা এবং নিজের ক্ষুধার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
৩. চোখের আড়াল তো মনের আড়াল
অনেকে মনে করেন ছোট প্লেটে খেলে কম খাওয়া যায়, কিন্তু গবেষণায় এই ধারণার খুব একটা সমর্থন পাওয়া যায়নি। আসল বিষয়টি হলো খাবারের সহজলভ্যতা। আপনার প্লেট যাই হোক না কেন, যদি বাড়তি খাবার টেবিলের পাশেই রাখা থাকে, তবে আপনি দ্বিতীয়বার খাবার তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার প্লেটে নিয়ে বাকিটা চোখের আড়াল করে রাখা বেশি কার্যকর।
৪. প্যাকেটজাত খাবারের লেবেল দেখুন
প্যাকেটজাত খাবার বা স্ন্যাকস খাওয়ার সময় সরাসরি প্যাকেট থেকে না খেয়ে একটি বাটিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঢেলে নিন। প্যাকেটের গায়ে লেখা ‘সার্ভিং সাইজ’ বা পরিবেশনের মান লক্ষ্য করুন। দেখা গেছে, মানুষ অনেক সময় নিজের অজান্তেই প্রয়োজনের তুলনায় তিন গুণ বেশি ক্যালরি গ্রহণ করে ফেলে। তবে আপেল বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক ফলের ক্ষেত্রে এটি ততটা আশঙ্কাজনক নয়।
৫. খাদ্যাভ্যাসে মনোযোগ
খাওয়ার সময় আমরা কী খাচ্ছি এবং কতটা খাচ্ছি, সেদিকে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। প্রক্রিয়াজাত খাবার বা আমেরিকান ধাঁচের ফাস্ট ফুড (যেমন বড় ক্যান্ডি বার বা বার্গার) খাওয়ার ফলে শরীরে অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ ক্যালরি পর্যন্ত জমা হতে পারে। তাই খাবারের স্বাদ উপভোগ করে এবং সচেতনভাবে খেলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব।
শেষকথা
বেশি খাওয়ার অভ্যাস রাতারাতি পরিবর্তন করা কঠিন। তবে পরিমাণের বিকৃতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া, খাবার পরিমাপ করে খাওয়া এবং শরীরের প্রাকৃতিক ক্ষুধার সংকেত বুঝতে পারলে সুস্থ থাকা এবং স্থূলতা প্রতিরোধ করা সহজ হয়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি