১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ, যুদ্ধবিরতির এখন কী হবে?

শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতা দূর করতে পাকিস্তানির মধ্যস্ততায় দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ভেস্তে গেছে সেই আলোচনা। কোনো প্রকার চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ।

শনিবারের (১২ এপ্রিল) হাই প্রোফাইল এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য পরস্পরকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইতোমধ্যে উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান উভয় পক্ষই এ আলোচনায় অংশ নিয়েছিল যুদ্ধে তারা জয়ী হয়েছে – এমন দাবি নিয়ে, তাই এত অল্প সময়ে কোনো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো স্বাভাবিক বিচারেই কঠিন ছিল।

কিন্তু এখন তাহলে কী হবে? গত বুধবার দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা কি বহাল থাকবে? নাকি ফের ইরানে হামলা শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল।

এ ব্যাপারে বিবিসির সংবাদদাতা জো ইনউড বলছেন, ইরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে হামলার সম্ভাবনা যে নিশ্চিতভাবেই বেড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি, যা ইরান আংশিকভাবে কিন্তু কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি আপাতত আলোচনার টেবিলের বাইরে রয়ে গেছে।

কিন্তু পারস্য উপসাগরে কয়েকদিন আগে মোতায়েন করা দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো অন্য কোনো উপায়ের কথা ভাবছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতে, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না- এমন বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হওয়াটাই ছিল আলোচনা সফল হওয়ার পথে প্রধান বাধা।

অন্যদিকে ইরান সবসময়ই দাবি করে এসেছে যে, তারা মারণাস্ত্র উৎপাদন করতে চায় না। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে দুটি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা হওয়ায় তাদের দেশে পারমাণবিক অস্ত্রের সমর্থকদের এখন পারমাণবিক শক্তি অর্জনে আরও উৎসাহিত করবে।

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি এ আলোচনা ছিল ঐতিহাসিক। কিন্তু এটি হয়তো কূটনীতির একটি ব্যর্থতা হিসেবেই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন