
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আজ মঙ্গলবার আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে।
যেখানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এছাড়া রয়েছেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল নান্নু, আতাহার আলী খান, তানজীম চৌধুরী, সালমান ইস্পাহিনী, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা। জানা যায়, বর্তমানে এই ১১ সদস্যের হবে এবং ক্রিকেটার, প্রশাসক ও ক্রীড়া সংগঠকদের সমন্বয়ে গঠিত হবে।
এনএসসির এই সিদ্ধান্তের ফলে বিসিবির দৈনন্দিন কাজকর্ম এখন অ্যাডহক কমিটির হাতে চলে যাবে। কমিটির প্রধান দায়িত্ব হবে বোর্ডের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করা।
বিসিবিতে এই সংকটের শুরু গত বছরের অক্টোবরের নির্বাচন থেকে। সেই নির্বাচনে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে। তামিম ইকবাল তখন সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু অনিয়মের প্রতিবাদে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির বাইরে থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি হস্তক্ষেপ ছিল।
এরপর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ছয়জন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ ৪ এপ্রিল তিনজন (সানিয়ান তানিম, মেহরাব আলম ও ফায়াজুর রহমান) একসঙ্গে ছেড়ে দেন। এনএসসি গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গত ৫ এপ্রিল নির্বাচনী অনিয়মের রিপোর্ট জমা দেয়। এরপরই চাপ বাড়ে এবং অবশেষে আজ বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়।
আমিনুল ইসলাম মাত্র কয়েকদিন আগেও বলেছিলেন, “আমি শেষ ব্যক্তি যে যাবে”। কিন্তু এনএসসির সিদ্ধান্তের কাছে তা টেকেনি। এর আগে ফারুক আহমেদকে সরিয়ে আমিনুলকে ২০২৫ সালের মে মাসে বোর্ডে আনা হয়েছিল।