২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার
১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রুসেলা ভ্যাকসিন গবেষণায় পিএইচডি অর্জন করলেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জামিনুর রহমান

শেয়ার করুন

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা:

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের এনিমেল প্রোডাকশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ড. মো. জামিনুর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

‘Development of inactivated brucella vaccine from local brucella isolates’ শিরোনামে গবেষণাকর্মে তিনি স্থানীয় ব্রুসেলা জীবাণু থেকে নিষ্ক্রিয় ভ্যাকসিন উন্নয়নের মাধ্যমে গোবাদি পশু ও মানুষের জন্য মারাত্মক রোগ ব্রুসেলসিস প্রতিরোধের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণাটি তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মোছা. মিনার খাতুন।

বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (BAS) এবং ইউনাইটেড স্টেট ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার (USDA)-এর অর্থায়নে পরিচালিত এ গবেষণার জন্য তিনি ২০১৯ সালের অক্টোবরে পিএইচডি ফেলোশিপ লাভ করেন।

নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ডালিয়া গ্রামের সন্তান ড. জামিনুর রহমান শিক্ষাজীবন শুরু করেন স্থানীয় বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে তিনি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্স অনুষদের অধীনে স্নাতক এবং ডেইরি ও পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পোল্ট্রি বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।শিক্ষাজীবন শেষে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রাণিসম্পদ খাতে কাজ করেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বার্ড ফ্লু প্রকল্পে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নে পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন। গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি ও চীন সফর করেছেন।

পিএইচডি অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও গবেষণার ফল হিসেবে এই ডিগ্রি অর্জন করতে পেরে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। আমি চাই, আমার গবেষণার ফল দেশীয় প্রাণিসম্পদ খাত ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কাজে লাগুক।”

তাঁর অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমের জন্য সহায়ক হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমার পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে অর্জিত গবেষণার দক্ষতা শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসর্গ করতে চাই, যেন আমার শিক্ষার্থীরা গবেষণা পদ্ধতির অংশ হিসেবে
গবেষনার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ধরন আয়ত্ত করতে পারেন এবং গবেষণাকার্যের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও জার্নালে প্রকাশনার প্রক্রিয়া রপ্ত করতে পারেন।’

এছাড়াও তাঁর এই অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ, গবেষণা সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. মো. জামিনুর রহমান।

শেয়ার করুন