
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক আরও ১২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক খুদেবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের ১০ দিনের মাথায় ২২ ফেব্রুয়ারি ১,০০৬টি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের তথ্য জানানো হয়েছিল।
জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই সরকারের সময়কার ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশের বিষয়টি গত ৮ ফেব্রুয়ারি জানায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এসব মামলার বেশিরভাগই হয়েছে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, এর ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ আওয়ামী সরকারের হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে হওয়া এসব মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর দুটি কমিটি করে।
এর মধ্যে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে হয় জেলা কমিটি; আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে করা হয় আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে আবেদন চাওয়া হয়। ভুক্তভোগী দলগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি বিভিন্ন সময়ে ৩৯টি সভার মাধ্যমে এসব আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুযারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন। ওই দিনই সরকার গঠন করে বিএনপি।