২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার
১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দাঁতে আটকে থাকা খাবার গিলে ফেললে কি রোজা ভেঙে যায়?

শেয়ার করুন

পবিত্র রমজান আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাস। রোজা কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং এটি দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে অন্যায় ও ত্রুটি থেকে রক্ষা করার এক বিশেষ সাধনা। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘রোজা হলো ঢালস্বরূপ, যতক্ষণ না তা ত্রুটিযুক্ত করা হয়।’ (সুনানে নাসায়ি: ২২৩৩)

মুহাদ্দিসরা এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, রোজা মানুষকে ইহকালে পাপাচার থেকে এবং পরকালে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে। তাই রোজাকে ত্রুটিমুক্ত রাখা প্রতিটি মুমিনের আবশ্যিক কর্তব্য। অনেক সময় সাহরির পর অসতর্কতাবশত দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা আটকে থাকে, যা দিনের বেলা অজান্তে পেটে চলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রোজা ভাঙবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এর সুনির্দিষ্ট সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো-

১. মুখের ভেতরে থাকা অবস্থায় পেটে গেলে

সাহরির সময় খাওয়া কোনো খাদ্যকণা যদি দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকে এবং তা মুখ থেকে বাইরে বের না করে লালার সাথে গিলে ফেলা হয়, তবে এর বিধান নির্ভর করবে খাবারের পরিমাণের ওপর।
ছোলার সমান বা বড় হলে: আটকে থাকা খাবারটি যদি পরিমাণে একটি ছোলা বুটের সমান বা তার চেয়ে বড় হয় এবং তা গিলে ফেলা হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তীতে ওই রোজার ‘কাজা’ আদায় করতে হবে।
ছোলার চেয়ে ছোট হলে: যদি খাবারটি ছোলা বুটের চেয়ে ছোট হয় এবং তা পেটে চলে যায়, তবে এতে রোজা ভাঙবে না। তবে রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে এমন করা ‘মাকরুহ’ বা অপছন্দনীয়।

২. মুখ থেকে বের করার পর পুনরায় গিলে ফেললে

দাঁতে আটকে থাকা খাবারটি যদি জিহ্বা বা আঙুল দিয়ে মুখ থেকে বাইরে বের করা হয়, তবে এর বিধান বদলে যায়। এ ক্ষেত্রে খাবারটি ছোট হোক বা বড়, মুখ থেকে বের করার পর পুনরায় তা গিলে ফেললে নিশ্চিতভাবে রোজা ভেঙে যাবে। এ ক্ষেত্রে পরিমাণের কোনো শর্ত নেই; খাবারটি সামান্যতম হলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা আদায় করতে হবে।

বিখ্যাত ফতোয়াগ্রন্থে এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে- ‘যদি কেউ মুখ থেকে খাবার বের করার পর পুনরায় তা গিলে ফেলে, তবে তা যতই ছোট হোক না কেন রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা আদায় করতে হবে।’ (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/২০০)

৩. রোজাকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে সতর্কতা
রোজার সওয়াব ও বিশুদ্ধতা রক্ষায় ওলামায়ে কিরাম কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন-

  • সাহরি খাওয়ার পর দাঁত ভালোভাবে ব্রাশ করা বা ফ্লসিং করা।
  • খিলাল বা মেসওয়াকের মাধ্যমে দাঁতের ফাঁকগুলো পরিষ্কার রাখা।
  • দিনের বেলা দাঁতে কোনো খাবারের অস্তিত্ব অনুভব করলে তা ভেতরে না নিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়া।

সংক্ষেপে মূলনীতি হলো- দাঁতের ভেতরে থাকা অবস্থায় ছোট কণা (ছোলার চেয়ে ছোট) পেটে গেলে রোজা ভাঙবে না। তবে বড় কণা হলে রোজা ভেঙে যাবে। আর মুখ থেকে বের করার পর যেকোনো পরিমাণ খাবার পুনরায় গিলে ফেললে রোজা নষ্ট হবে। রোজার মূল উদ্দেশ্য অর্জনে পানাহারের পাশাপাশি আমাদের ছোটখাটো এসব বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন