২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার
৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আ.লীগের যোগসাজশ হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশ হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের বিনিময়ে যদি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করা হয় তাহলে জনগণ প্রতিরোধ করবে। সরকার ব্যর্থ হলে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। এটা অব্যাহত থাকলে আমরা রাজনৈতিক প্রতিরোধের ডাক দিবো।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সারাদেশে জেলায় উপজেলায় বিচার চলমান আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হচ্ছে। আর মিডিয়ায় উৎসবের সঙ্গে প্রচার করছে এবং উৎসাহ দিচ্ছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আশাহত হয়েছি, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা শপথ নিয়েছি। কিন্তু প্রথমদিনেই শপথ গ্রহণ নিয়ে সরকার সবার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের সাথে গণভোট অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। একটি ভুল ব্যাখ্যা ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। আশা করি তারা দ্রুত শপথ নিবে এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংস্কারে উদ্যোগ নিবে।

সংসদ অধিবেশন নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আহ্বান জানাই দ্রুত অধিবেশন ডাকার এবং তার আগে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার। দ্রুতই সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আহবান জানায়।

মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে 
নাহিদ ইসলাম বলেন, এই মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক বৈষম্য করা হয়েছে। দেশের অনেকগুলো বৃহত্তর অঞ্চল থেকে মন্ত্রী করা হয়নি। একইসঙ্গে এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি। নারী ও সংখ্যালঘু থেকে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব হয়নি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই মন্ত্রিসভার গড় বয়স ৬০। তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিফলন মন্ত্রিসভায় হয়নি। তিনি বলেন, মন্ত্রীসভার ৬২ শতাংশ ব্যবসায়ী। অর্ধেকের বেশি ব্যবসায়ী হওয়ায় তারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিবে বেশি। আবার এই ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই ঋণখেলাপী। এই ব্যবসায়ীদের ১৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনটি মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, খুন ও ঋণখেলাপী হওয়ার অভিযোগ আছে। তিনি বলেন, সেই ঋণ তারা কবে পরিশোধ করবেন এটা বাংলাদেশের মানুষ জানতে চাই। ঋণ পরিশোধ ছাড়া তাদের মুখে দুর্নীতি নিয়ে কথা বলা শোভা পায় না। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তারাও এই মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছে।

শেয়ার করুন