
শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান। গতকাল সন্ধ্যায় দেখা গেছে মহিমাময় এই মাসের চাঁদ। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি তা নিশ্চিত করেছে। সে হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হবে রমজানের গণনা। আগামী ১৬ মার্চ রাতে হতে পারে লাইলাতুল কদর, যা দেশের মুসলিম সমাজে বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়।
চাঁদ দেখার পর রমজানের প্রথম ব্যস্ততা তারাবি। এশার নামাজের পর তা আদায় করা হয়। মূলত এর মধ্য দিয়েই শুরু হয় রমজানের আনুষ্ঠানিকতা। সুবহে সাদিকের আগে সেহরি খেতে হয়। অতঃপর দিনব্যাপী উপবাসের মাধ্যমে করতে হয় সিয়াম সাধনা। এভাবেই রমজানের দিনগুলো যাপন করা হয়।
তারাবিতে অনেক মসজিদে কুরআন খতম করা হয়। মুসলমানরা এতে আগ্রহভরে অংশ নিয়ে থাকে। কখনো কাজের ব্যস্ততায় অন্য এলাকায় তারাবি পড়তে হয়। তখনও যেন খতমের ধারাবাহিকতায় ব্যত্যয় না ঘটে; সেজন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সকল মসজিদে যেন একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সে হিসেবে প্রথম ছয় দিনে যেন দেড় পারা করে ৯ পারা পড়া হয়। এরপর বাকি ২১ দিনে যেন ১ পারা করে ২১ পারা তেলাওয়াত করা হয়। তাহলে ২৭ রমজান পবিত্র শবেকদরের রাতে খতম সম্পন্ন হবে।
মুসলমানরা নানা আমলের মধ্য দিয়ে যাপন করে রমজানের দিবসগুলো। কখনো নফল নামাজ পড়ে। কখনো কুরআন তেলাওয়াতে ব্যয় করে সময়। আবার জিকির-আজকারেও রত থাকতে দেখা যায় কখনো কখনো। এছাড়া দান-খয়রাতের পরিমাণও বেড়ে যায় এই মাসে। এভাবে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করা হয়।
বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় রমজানের মর্যাদা ব্যতিক্রম। এ মাসে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত ও বরকত পাওয়া যায়। পাওয়া যায় নাজাতের বিশেষ নেয়ামত। সেজন্য বছরজুড়ে মুসলমানরা এই মাসটির অপেক্ষায় থাকে। তারা এটিকে ইবাদতের বসন্তও মনে করে থাকে।
রমজানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় চাঁদ দেখে। পৃথিবীর সব দেশে চাঁদ একই সময় দেখা যায় না। সেজন্য একেক দিন একেক দেশে রমজান শুরু হয়। আমাদের দেশে রমজান শুরু হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার থেকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে রমজান এসেছে আরো একদিন আগে- বুধবারে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার বুধবার থেকেই রোজা রাখতে শুরু করেছে। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান আমাদের সাথেই রোজা রাখছে। কারণ, সৌদি, আমিরাত বা কাতারের সাথে তাদের দেশে চাঁদ দেখা যায়নি।