২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত

শেয়ার করুন

রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও জেলার ৩৩ কিলোমিটার পূর্বাঞ্চলে একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে ৩ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ভূমিকম্পটি স্বল্পমাত্রার হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা এখনো নির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি অগভীর ভূমিকম্প ছিল। সাধারণত অগভীর ভূমিকম্প হলে কম মাত্রাতেও তা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদিও এই ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ ভূমিকম্পটি টের পাননি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

স্থানীয়দের একটি অংশ জানান, তারা হালকা কাঁপুনি অনুভব করলেও তা ছিল খুব অল্প সময়ের জন্য। অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেননি বা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর দেখে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানানো হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্প অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ভূতাত্ত্বিক ফল্ট লাইনের প্রভাব এ এলাকায় মাঝে মাঝে স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে। তবে এমন ছোট মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করে না।

ভূমিকম্পবিদরা বলছেন, ৩ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে এটি ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না—সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। তারা মনে করেন, নিয়মিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভবনের ভেতরে থাকলে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়া এবং ভারী আসবাবপত্র থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভূমিকম্প–পরবর্তী সময়ে গ্যাসলাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগসহ সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্পের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব ছোট ভূমিকম্প ভূ-গর্ভস্থ চাপ নির্গমনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপদ ভবন নির্মাণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।

ঠাকুরগাঁও ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্পটি বড় ধরনের প্রভাব না ফেললেও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শেয়ার করুন