১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ডাকসু ভিপির

শেয়ার করুন

ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কার্যকর তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে ডাকসুর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ ওসমান হাদিকে হারিয়ে তার পরিবার আজ গভীর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। ছোট সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে তার স্ত্রী ন্যায়বিচারের আশায় অপেক্ষা করছেন। শোককে শক্তিতে পরিণত করে হাদির সহযোদ্ধারা তার হত্যার বিচারের দাবিতে ‘শহীদি শপথ’ গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, অন্যান্য অনেক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়লেও শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানসহ হুকুমদাতাদের কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। এমনকি তাদের অবস্থান সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ডাকসু ভিপি আরও বলেন, লাখো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত শহীদ হাদির জানাজার পরও হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিচার নিশ্চিতের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে দায়িত্বশীল ও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের সহযোগীরা ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে শহীদ হাদির হত্যার বিচার দাবিকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান ও ফলোআপ সংবাদ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাদিক কায়েম।

তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও সুশীল সমাজসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।

পরদিন (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখো ছাত্র-জনতা অংশ নেন। জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন