২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্নত অনুযায়ী বিয়ে পড়ানোর সঠিক পদ্ধতি

শেয়ার করুন


ইসলামে বিবাহ একটি পবিত্র চুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বর-কনের স্বাধীন সম্মতি একান্ত প্রয়োজন; জোরপূর্বক বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোরআন ও সুন্নাহ অনুসারে বিবাহ পড়ানোর সুন্নত পদ্ধতি সংক্ষেপে হলো—

১. বর-কনের সম্মতি:
কোনো বিধবা বা কুমারি নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। কুমারির অনুমতি বোঝার জন্য তার চুপ থাকা যথেষ্ট। (সুরা নিসা: ১৯; সহিহ বুখারি: ৫১৩৬)

২. বিবাহের সময় ও স্থান:
মসজিদে এবং জুমার দিনে বিবাহ সম্পন্ন করা উত্তম। তবে অন্য দিন ও স্থানেও বৈধ।

৩. কনের অনুমতি গ্রহণ:
বিবাহের আগে কনের স্পষ্ট অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। (সহিহ মুসলিম: ১৪১৯)

৪. অভিভাবকের ভূমিকা:
কনের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি জরুরি। (সুনানে তিরমিজি: ১১০১)

৫. বিবাহের খুতবা পাঠ:
খুতবার শুরুতে আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ করা হয়। এরপর সুরা নিসা, আয়াত ১; সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১০২; সুরা আহজাব, আয়াত ৭০–৭১ তেলাওয়াত করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ: ২১১৮)

৬. ইজাব ও কবুল:
খুতবার পর অভিভাবক বরের সামনে কনের পরিচয় ও মোহরের পরিমাণ উল্লেখ করে বিবাহ প্রস্তাব দেন (ইজাব)। বর স্পষ্টভাবে ‘কবুল করলাম’ বলে গ্রহণ করেন।

৭. সাক্ষীর উপস্থিতি:
বিবাহ সম্পন্ন করতে কমপক্ষে দুইজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতি আবশ্যক। বর উচ্চস্বরে কবুল বলবেন; বোবা হলে ইশারা বা লেখার মাধ্যমেও বৈধ। (সহিহ বুখারি: ৯৫)

৮. সুন্নতি দোয়া:
ইজাব-কবুলের পর উপস্থিত সবাই বর-কনের জন্য দোয়া পাঠ করবে—
‘বা-রাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বা-রাকা আলাইকা, ওয়া জামাআ বায়নাকুমা ফী খায়র।’ অর্থ: আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমার ওপর বরকত নাজিল করুন এবং আপনাদের দুজনকে কল্যাণের সঙ্গে একত্রিত করুন। (সুনানে তিরমিজি: ১০৯১)

সুন্নত মোতাবেক বিয়ে সম্পন্ন হলে বরকত নেমে আসে। বর-কনের সম্মতি, অভিভাবকের অনুমতি, সাক্ষী ও সঠিক ইজাব-কবুল নিশ্চিত করে পবিত্র দাম্পত্য জীবন শুরু করা যায়।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন