২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কবুতরও দেয় ‘দুধ’—ছানাদের বাঁচার প্রথম খাদ্য

শেয়ার করুন


দুধ বলতেই আমাদের চোখে ভাসে গরু, ছাগল বা মানুষের ছবি—অর্থাৎ স্তন্যপায়ী প্রাণী। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য, এক ধরনের পাখিও দুধের মতো পুষ্টিকর খাবার তৈরি করে। সেই পাখিটি আমাদের অতি পরিচিত কবুতর। বিজ্ঞানীরা এই তরলের নাম দিয়েছেন ‘পিজন মিল্ক’

কীভাবে তৈরি হয় কবুতরের দুধ?
কবুতরের দুধ স্তনগ্রন্থি থেকে আসে না। এটি তৈরি হয় তাদের গলার ভেতরের বিশেষ থলি সদৃশ অঙ্গ ‘ক্রপ’ থেকে। ছানা ফোটার সময় ক্রপের ভেতরের কোষগুলো ভেঙে সাদা-হলদেটে, পুরু এক ধরনের তরল সৃষ্টি করে। মা ও বাবা—উভয় কবুতরই ঠোঁটের মাধ্যমে এই তরল ছানাদের খাওয়ায়। সাধারণত জন্মের পর প্রথম ১০ দিন ছানারা কেবল এই দুধই গ্রহণ করে।

পুষ্টিগুণে ভরপুর
গবেষণায় দেখা গেছে, পিজন মিল্কে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ফ্যাট, অ্যান্টিবডি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ইমিউন সেল। এগুলো ছানার দ্রুত বৃদ্ধি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এই দুধে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া ছানাকে সংক্রমণ থেকেও রক্ষা করে।

পুরুষ কবুতরও দুধ দেয়—বিরল ঘটনা
প্রাণিজগতে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক দিক হলো—পুরুষ কবুতরও পিজন মিল্ক তৈরি করতে পারে। দুধ উৎপাদনে মা ও বাবা উভয়ের ভূমিকা থাকা অত্যন্ত বিরল বৈশিষ্ট্য।

আর কারা দেয় এমন দুধ?
কবুতরের পাশাপাশি ফ্লেমিংগোসম্রাট পেঙ্গুইনও দুধজাতীয় তরল উৎপাদন করে। তবে পুষ্টিমান ও জৈব জটিলতায় কবুতরের দুধকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ মনে করা হয়।

বৈজ্ঞানিক আগ্রহ বাড়ছে
বিজ্ঞানীদের মতে, পিজন মিল্কের রাসায়নিক গঠন অনেকটাই মানুষের বুকের দুধের মতো। ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানে এই দুধ নিয়ে গবেষণা চলছে—এ থেকে ভবিষ্যতে ইমিউন বুস্টার বা প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রকৃতি যেন বারবারই প্রমাণ করে দেয়—জীবনের শুরুতে সন্তানের সুরক্ষা ও পুষ্টির জন্য তার কৌশলের কোনো সীমা নেই।

শেয়ার করুন