১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামে প্রাণী হত্যা: বিনা কারণে নিষিদ্ধ ও দায়বদ্ধতা

শেয়ার করুন

সম্প্রতি পাবনার ঈশ্বরদীতে পানিতে আটটি কুকুরছানাকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষভাবে ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই জানতে চাইছেন, ইসলাম প্রাণী হত্যা ও নির্যাতনকে কীভাবে দেখে।

ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাণীর প্রতি সদয় আচরণ অপরিহার্য। মানুষের উচিত প্রাণিকুলের জীবনকেও নিজের জীবনের মতো মূল্যায়ন করা। পবিত্র কোরআনের আয়াতে বলা হয়েছে, “ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই, অথবা আকাশে উড়ছে এমন কোনো পাখি নেই, যাদের আল্লাহ তোমাদের মতো উম্মত করেছেন না।” (সুরা আনআম: ৩৮)

ইসলামে বিনা প্রয়োজনে প্রাণী হত্যা করা নিষিদ্ধ। তবে কিছু প্রয়োজন আছে, যেমন—মানবিক খাদ্য, চিকিৎসা, পোশাকের জন্য প্রাণীর ব্যবহার, অথবা ক্ষতিকর প্রাণী থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষা। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, “রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন; তবে সে কষ্ট দিলে ব্যতিক্রম রয়েছে।” (আল মুজামুল কাবির, হাদিস: ১২৬৩৯)

বিনা প্রয়োজনে প্রাণী হত্যা করলে পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি অযথা চড়ুই পাখি হত্যা করবে, সে কিয়ামতের দিন ক্রন্দন করবে, কারণ সে কোনো কল্যাণ ছাড়াই প্রাণীকে হত্যা করেছে।” (মুসনাদে আহমদ: ১৯৬৯৯)

এক হাদিসে বলা হয়েছে, এক নারী বিড়ালকে বন্দী করে রাখায় এবং খাওয়ানো বা ছাড়িয়ে না দেয়ায় প্রাণীটি মারা গেলে মহিলাকে জাহান্নামে পাঠানো হয়। (বোখারি: ৩৪৮২)

তবে যেসব প্রাণী মানুষের জীবন বা সম্পদ ক্ষতি করে, তাদের হত্যা ইসলাম অনুযায়ী জায়েজ। যেমন—ইঁদুর, বিচ্ছু, কাক, চিল এবং হিংস্র কুকুর। (তিরমিজি: ৮৩৭)

আল্লামা সারাখসি (রহ.) উল্লেখ করেছেন, এগুলো কষ্টদায়ী প্রাণী, তাই বিশেষ ক্ষেত্রে হত্যার বিধান নিষিদ্ধ নয়। (আল মাবসুত: ৪/৯০)

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী প্রাণী হত্যা শুধুমাত্র প্রয়োজনের জন্য সীমিত, আর অযথা প্রাণহানি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং পরকালে দায়বদ্ধতার বিষয়।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন