আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ইবাদতের জন্য, আর নামাজ হলো ইবাদতের সর্বোত্তম রূপ। প্রতিটি মুসলমানের ওপর নামাজ ফরজ করা হয়েছে। স্থলে, আকাশে কিংবা সমুদ্রের মাঝেও নামাজের বিধান শিথিল হয় না। যেমন ইরশাদ হয়েছে, “আর তোমরা আমার স্মরণোদ্দেশ্যে নামাজ কায়েম করো।” (সুরা ত্বহা : ১৪)
সাধারণ জীবনে আমরা দিনের বড় অংশ বাসা-বাড়ির বাইরে থাকি। ইসলামে চলন্ত যানবাহনেও নামাজ আদায় করার বিধান রয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য রহমত এবং ইবাদতের দায়িত্ববোধ জাগ্রত রাখার একটি উপায়।
চলন্ত যানবাহনে নামাজ আদায়ের শরায়ি নির্দেশনা
-
চলন্ত জাহাজ, বিমান বা ট্রেনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া সম্ভব হলে কিবলার দিক ঠিক করে দ্রুত ফরজ নামাজ আদায় করতে হবে। বাহন ঘুরলে নামাজিও কিবলার দিকে ঘুরে নামাজ চলবে। এভাবে পড়লে নামাজ পরে কাজা করতে হবে না।
-
দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া কষ্টকর হলে বসে বা যে ভঙ্গিতে সম্ভব সেভাবেই নামাজ আদায় করতে হবে। তবে এ অবস্থায় পরে নামাজ কাজা করতে হবে।
বাসযাত্রায় নামাজ
-
স্বল্প দূরত্বে (যেমন: মিরপুর-যাত্রাবাড়ী, সাভার-ঢাকা) বাস থেকে নেমে নামাজ পড়া উত্তম।
-
দূরপাল্লার যাত্রায় যেখানে নামাজের সময় শেষ হওয়ার আগে নামাজ পড়া সম্ভব না, সেখানে দুই সিটের মধ্যে দাঁড়িয়ে কিবলামুখী হয়ে রুকু ও সিজদাসহ নামাজ আদায় করতে হবে। হেলান দিয়ে বা হাতে ধরেও অবস্থান করা যেতে পারে।
-
যদি পুরো রুকু-সিজদা করা না যায়, তবে সামনের বা পেছনের সিটে বসে ইশারায় নামাজ আদায় করা যাবে।
-
কেবলামুখী বা দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া সম্ভব না হলে, সেভাবে নামাজ আদায় করতে হবে। পরে সেই নামাজ কাজা করতে হবে।
উল্লেখ্য, যে অবস্থায় নামাজ আদায় করা সম্ভব নয়, সে অবস্থার নামাজ অবশ্যই পরে কাজা করতে হবে। (মাআরিফুস সুনান : ৩/৩৯৪-৯৬, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৮৮)
সিএনআই/২৫