২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুমে ভূমিকম্পে বাঁচাবে চীনের উদ্ভাবিত বিশেষ খাট

শেয়ার করুন

প্রকৃতির সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দুর্যোগের মধ্যে ভূমিকম্প অন্যতম। পূর্বাভাসের সুযোগ না থাকায় এর ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনা বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন এমন এক বিশেষ বিছানা, যা ঘুমের মাঝেও ভূমিকম্প থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সক্ষম।

এই উদ্ভাবনের পিছনে রয়েছেন চীনা বিজ্ঞানী ওয়াং ওয়েনক্সি। তার ডিজাইন করা এই খাট ভূমিকম্প শনাক্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাঁজ হয়ে শক্ত ইস্পাতের বাক্সে পরিণত হয়। ফলে ছাদ ভেঙে পড়লেও ভেতরের মানুষ নিরাপদ থাকে। ওয়েনক্সি ২০০৮ সালের সিচুয়ান ভূমিকম্পের ভয়াবহতা দেখার পর এই উদ্ভাবনের পথে হেঁটেছিলেন। ২০১০ সালে তিনি বিছানাটির পেটেন্ট নেন এবং পরবর্তী সময়ে আরও উন্নত মডেল তৈরি করছেন।

কীভাবে কাজ করে খাটটি?
১. সেন্সর সক্রিয় হয়: বিশেষ সেন্সর কম্পন শনাক্ত করলে বিছানাটি দ্রুত ভাঁজ হয়ে মানুষের জন্য নিরাপদ ফাঁকা জায়গা তৈরি করে। ওপরে ভারি ঢাকনা নেমে আসে, যা ধ্বংসস্তূপ থেকে রক্ষা করে।

২. শক্ত ইস্পাত ফ্রেম: খাটের বাক্সটি উচ্চমানের ইস্পাত দিয়ে তৈরি, যা প্রচণ্ড চাপ ও ধ্বংসাবশেষ সহ্য করতে পারে।

৩. জরুরি সরঞ্জাম: ভিতরে রাখা আছে পানি, শুকনো খাবার, হুইসেল, টর্চ লাইট ও প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী। এই সরঞ্জাম ব্যবহার করে এক সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকা সম্ভব।

৪. উদ্ধারের সুবিধা: মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা থাকায় উদ্ধারকর্মীরা সহজে খাট শনাক্ত করতে পারবেন।

সমালোচনা ও সীমাবদ্ধতা:
খাটের দাম বেশি এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বাসায় স্থাপন ঝক্কিপূর্ণ, আর উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত শনাক্তের সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গভীর রাতে ভূমিকম্পে এই খাট জীবন রক্ষা করতে পারে।

ওয়াং ওয়েনক্সির উদ্ভাবন এখনও উন্নয়নধীন। বাজারে এলে দাম বেশি হলেও দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে এর জনপ্রিয়তা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন