২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিডিআর হত্যাকাণ্ডে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি

শেয়ার করুন


২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৮ সেনা সদস্য ও শাকিল আহমেদের স্ত্রী নাজনীন হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দেশের ইতিহাসের নৃশংসতম এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ছিল।

গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। গত রবিবার কমিশন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

ঘটনার মূল সমন্বয়কারী ছিলেন ফজলে নূর তাপস। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা জড়িত ছিলেন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। পাশাপাশি কিছু ভারতীয় ব্যক্তির সম্পৃক্ততার আলামতও পাওয়া গেছে। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদও দায় এড়াতে পারবেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদন গ্রহণের সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতি দীর্ঘদিন অন্ধকারে ছিল। সত্য উদঘাটনে কমিশনের ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় থাকবে।”

কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান জানান, ১৬ বছর আগের ঘটনাটির বহু আলামত নষ্ট হয়ে গেলেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। সাক্ষীদের দীর্ঘসময় ধরে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে এবং পুরোনো তদন্ত তথ্যও সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় ভারতের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। ভারত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে দুর্বল করতে চেয়েছিল।” এ বিষয়ে ভারতের কাছে তথ্য চাইতে সরকারের প্রতি সুপারিশও করেছে কমিশন।

দেশবাসীর প্রত্যাশা, কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পিলখানার ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন