
আফ্রিকার তিন দেশ—ইসওয়াতিনি, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জাম্বিয়ায়—প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের মধ্যে এইচআইভি প্রতিরোধে নতুন ইনজেকশন ‘লেনাকাপাভির’ প্রয়োগ শুরু হয়েছে। মহাদেশটিতে বিশ্বের সর্বাধিক এইচআইভি আক্রান্ত রোগী থাকায় এটিকে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বছরে মাত্র দুইবার নিতে হয় এমন এই ইনজেকশন সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কার্যকরভাবে শক্তিশালী প্রতিরোধক টিকার মতোই কাজ করতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এইচআইভিতে আক্রান্ত। সেখানে উইটস ইউনিভার্সিটির গবেষণা দল পুরো কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রকল্পটি জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা ইউনিটেইডের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।
ইউনিটেইড জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণই প্রথম নিয়মিত প্রতিরোধমূলক সেবা হিসেবে লেনাকাপাভির ব্যবহার শুরু করেছেন। তবে কতজন মানুষ প্রথম ডোজ পেয়েছেন—সে তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে এই ওষুধের এক বছরের খরচ প্রায় ২৮ হাজার ডলার, যা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
জাম্বিয়া ও ইসওয়াতিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে ১ হাজার ডোজ পেয়েছে। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে এ ইনজেকশন সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হচ্ছে।
এদিকে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গিলিয়াড সায়েন্সেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আগামী তিন বছরে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ২০ লাখ মানুষকে বিনালাভে লেনাকাপাভির সরবরাহ করবে। তবে সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক দাতাদের সরবরাহ করা ডোজ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম এবং ওষুধের দাম অত্যন্ত বেশি।
সিএনআই/২৫