
সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের কমিশন প্রতি ঘনমিটারে বর্তমান ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে কমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয়ের ব্যবস্থাও চেয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনের মহাসচিব ফারহান নুর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্তসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ২০১৫ সালের পর থেকে সরকার সাত দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও সিএনজি স্টেশন মালিকদের কমিশন সমন্বয় করা হয়নি। ফলে উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও সরকার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের কারণে সেই ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপানো সম্ভব হয়নি। এতে দেশের অনেক সিএনজি স্টেশন লোকসানের মুখে পড়েছে।
তাদের দাবি, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কমিশনের সঙ্গে আরও ২ টাকা ৪৬ পয়সা এবং মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, ডলারের দাম বৃদ্ধি ও যন্ত্রাংশের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত ৩ টাকা ৫০ পয়সা সমন্বয় করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে কমিশন ৫ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সরকারি কমিটি ও মন্ত্রণালয় তাদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে সুপারিশ করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সাম্প্রতিক সময়েও জ্বালানি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সিএনজি স্টেশন মালিকরা।
তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে সিএনজি দেশের বায়ুদূষণ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই খাতটির টেকসই পরিচালনার স্বার্থে কমিশন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।