
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হলহলিয়া রেলওয়ে ব্রিজের উত্তর পাশের একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্ক। প্রায় ৫৫ ডিগ্রি বাঁকানো এই রেললাইনে ট্রেনের উপস্থিতি আগে থেকে টের পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ফলে প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। এর আগেও এই স্থানে রাস্তা পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেছে। দিনে ১২টি ট্রেন গড়ে ২৪ বার যাওয়া আসা করে।
গত বছরের ২৯ মার্চ মিজানুর রহমান নামে এক প্রবাসী মোটরসাইকেলযোগে ওই দিন সকালে তার খালার বাড়ি গণিপুর গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানে ঈদের বাজার পৌঁছে দিয়ে তিনি নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। ফেরার পথে হলহলিয়া রেলসেতুর পূর্বদিকে রাস্তা পারাপারের সময় চিলাহাটী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘চিলাহাটী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে রেললাইনের পাশে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, হলহলিয়া রেল ব্রিজের দক্ষিণ দিকে জাফরপুর রেলস্টেশনের দিকে রেললাইনটি আকস্মিকভাবে আনুমানিক বেঁকে গেছে। এই বিপজ্জনক বাঁকের কারণেই উত্তর দিক থেকে আসা ট্রেনগুলো একেবারে কাছে না আসা পর্যন্ত দেখা যায় না। রেললাইনের দুই পাশ্বে শ্রীরামপুর ও হলহলিয়া গ্রাম।
দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই গেটবিহীন রাস্তাটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। শুধু দুই গ্রাম না, রাস্তাটি পাকা হওয়ায় আক্কেলপুর হয়ে তিলকপুর অভিমুখী হাজার মানুষ এই মরণফাঁদ দিয়ে চলাফেরা করছেন।
হলহলিয়া রেল ব্রিজটি স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় ঈদ কিংবা বিভিন্ন উৎসবে এখানে শত শত মানুষের ভিড় জমে। পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য এটি যাতায়াতের অন্যতম রাস্তা। যাতায়াতকারী ও পর্যটকরা বলছেন, ট্রেনের ইঞ্জিনের শব্দ বাঁকে বাধা পেয়ে দিকভ্রান্ত করে দেয়, ফলে ট্রেন ঠিক কখন ব্রিজের ওপর চলে আসে তা বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
রিয়াদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, স্কুল থেকে যাতাযাতের সময় আমাদের অসুবিধা হয়। ২০২৪ সালে এখানে একটি দুর্ঘটনা ঘটে। সেই দুর্ঘটনার কথা মনে পড়লে এখনো আতঙ্ক কেঁপে উঠি। যাতাযাতের সময় অনেক মানুষ বুঝতে পারে না। এজন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকিটা বেশি।
পথচারী মিন্টু হোসেন বলেন, বাঁকের কারণে ট্রেন দেখা যায় না। এখানে গেট হলে সকলের সুবিধা। প্রতিদিন ছেলে মেয়ে, আমি নিজেও যাওয়া আসা করি। এখানে একটি স্থায়ী গেট ও গেটম্যান নিয়োগ করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই পয়েন্টে কোনো গেটম্যান ও গেট নেই। মিজানুর রহমানের মতো আরও অনেকের প্রাণ অকালেই ঝরে যাচ্ছে এই অরক্ষিত ক্রসিংয়ে। এলাকার শিক্ষার্থীরা এবং কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে যাওয়া সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকেন।
স্থানীয় যুবক ছাব্বির হোসেন মাহি বলেন, এখানে একজন ব্যক্তি দূঘটনায় মারা গিয়েছে। আমাদের একটাই দাবি সরকারের কাছে এখান দ্রুত গেটের ব্যবস্থা করা।
আক্কেলপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হলহলিয়া ব্রিজের উত্তরপাশে অরক্ষিত রেলক্রেসিংয়ে যে কোনো সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় লোকজন স্টেশনে আমাদের কাছে অভিযোগ করে। আমরা তাদেরকে বলি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডিএনওয়ান ডিএনটুকে জানালে সমাধান হতে পারে।
বিভাগীয় প্রকৌশলী পাকশী-২ নাজিব কাউসার বলেন, এই পথে প্রায় ৭০০টি অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে। যেখানে সেখানে পথ চলাচলের জন্য রেলক্রেসিং সেগুলো রেলক্রসিং বৈধ নাকি অবৈধ, তা যাচাই করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে আবেদন করা হলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।