২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার
১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আমিরাতের

শেয়ার করুন

বিশ্বের শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশগুলো জোট ‘ওপেক’ এবং ‘ওপেক প্লাস’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আগামী ১ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, যা তেল উৎপাদনকারী জোট এবং জোটের অঘোষিত নেতা সৌদি আরবের জন্য বড় ধাক্কা।

আমিরাত এমন এক সময়ে এই ঘোষণা দিলো যখন ইরান যুদ্ধ একটি ঐতিহাসিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। কারণ ইরানের হুমকি এবং জাহাজের ওপর হামলার কারণে ওপেকভুক্ত উপসাগরীয় তেল উৎপাদক দেষগুলো প্রণালি দিয়ে জ্বালনি রফতানি করতে হিমশিম খাচ্ছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে, ‘এই সিদ্ধান্তটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রকল্প এবং দেশটির জ্বালানি খাতের উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদনে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করাও অন্তর্ভুক্ত। এটি একটি দায়িত্বশীল ও নির্ভরযোগ্য উৎপাদক হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকার প্রতি তার অঙ্গীকারকেও শক্তিশালী করে।’

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় স্বার্থ এবং বাজারের জরুরি চাহিদা মেটাতে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার দেশের অঙ্গীকার, বিশেষ করে আরব উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির বিশৃঙ্খলা থেকে উদ্ভূত স্বল্পমেয়াদে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে, যা সরবরাহের গতিপ্রকৃতিকে প্রভাবিত করে’।

এদিকে ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কৌশলগত এবং রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ওপেকের বিরুদ্ধে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে রাখার অভিযোগ করে আসছেন।

অন্যদিকে আমিরাতের মতো বড় উৎপাদনকারীর প্রস্থান ওপেক জোটকে দুর্বল করে দেবে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বাড়িয়ে দেবে এবং সৌদি আরব বা রাশিয়ার মতো দেশগুলোর একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। কারণ ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে আমিরাত এখন কোনো কোটা ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী তেল উৎপাদন বাড়াতে পারবে। আর বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমিরাতের এই আকস্মিক ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিলেও কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়ার আগ পর্যন্ত দাম চড়া থাকতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ বাড়লে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দাম কমে ব্যারেল প্রতি ৭০-৯০ ডলারের ঘরে নামতে পারে।

প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী একটি জোট। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত এবং ভেনিজুয়েলা- ৫টি দেশ মিলে জোটটি গঠন করলেও পরবর্তীতে আরও অনেক দেশ এতে যোগ দেয়। তবে বিগত কয়েক বছরে কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ইকুয়েডর এবং অ্যাঙ্গোলা ওপেক ত্যাগ করেছে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জোটে সদস্য ১২টি দেশ।

এছাড়াও ২০১৬ সালে ওপেকের সাথে রাশিয়া, কাজাখস্তান, ওমান, মেক্সিকোসহ ১০টি অ-ওপেক তেল উৎপাদনকারী দেশ যুক্ত হয়ে গঠন করে ওপেক প্লাস। এর ফলে বিশ্ব বাজারের ওপর ওপেকের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়।  বর্তমানে তারা বিশ্বের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে।

সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স

শেয়ার করুন