১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার
২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নদীভাঙনের মুখে গলাচিপার শতবর্ষী দয়াময়ী দেবী মন্দির

শেয়ার করুন

পটুয়াখালী, গলাচিপা প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা-এর ঐতিহ্যবাহী দয়াময়ী দেবী মন্দির ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই শত বছরের এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাটি সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে মন্দিরের প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত সিংহ দরজাটি সুতাবড়িয়া নদী-এর গর্ভে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই সুতাবড়িয়া নদীর তীব্র ভাঙনে মন্দির সংলগ্ন এলাকা ধসে পড়ছে। নদীর পাড় ধীরে ধীরে মন্দিরের মূল অংশের দিকে এগিয়ে আসছে, ফলে মন্দিরটির অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিদিনই নদীভাঙনের কারণে মন্দিরের চারপাশের জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

দয়াময়ী দেবী মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে নানা পৌরাণিক কাহিনী ও লোককথা। জনশ্রুতি রয়েছে, বহু বছর আগে গভীর রাতে মন্দির এলাকার একটি প্রাচীন বেল গাছের নিচে মাটি ফুঁড়ে অলৌকিকভাবে বের হয়ে আসে দয়াময়ী দেবীর একটি মূর্তি। ঠিক সেই রাতেই এলাকার জমিদার ভবানী শঙ্কর সেন স্বপ্নযোগে আদেশ পান—মূর্তিটি যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আরেকটি প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, জমিদার ভবানী শঙ্কর সেন স্বপ্নে দেবীর নির্দেশ পাওয়ার পর পাশের নদীতে সূর্যস্নান করতে গিয়ে পানির ওপর ভাসমান অবস্থায় পাথরের তৈরি দয়াময়ী দেবীর একটি মূর্তি দেখতে পান। পরে সেই মূর্তিটি উদ্ধার করে এনে দেবীর নামে প্রতিষ্ঠা করেন দয়াময়ী দেবী মন্দির।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, বাংলা ১২০৮ সনে গলাচিপার সুতাবাড়িয়া গ্রামের প্রায় তিন একর জমির ওপর মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরটি এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, বিশেষ করে দুর্গাপূজা, কালীপূজা ও অন্যান্য পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে পূজা দিতে আসেন।

তবে সাম্প্রতিক নদীভাঙনে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত নদীশাসন বা প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হলে মন্দিরের মূল কাঠামোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিক, যাতে গলাচিপার এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।

শেয়ার করুন