২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার
১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে যে ভুল ধারণা ক্ষতি করছে

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় ফুসফুসের ক্যানসার দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগটি দেরিতে ধরা পড়ার পেছনে অনেক সময় ভুল ধারণার ভূমিকা থাকে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করাই জীবন বাঁচানোর মূল উপায়।

ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা:

১. শুধু ধূমপায়ীদের হয়
ধূমপান বড় কারণ হলেও একমাত্র নয়। প্রায় ২০% ক্যানসার দেখা যায় যারা কখনো ধূমপান করেননি। দীর্ঘদিনের বায়ুদূষণ, অ্যাসবেস্টস বা রাডনের সংস্পর্শ, পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস—সবই ঝুঁকি বাড়ায়।

২. প্রাথমিক লক্ষণ সহজেই বোঝা যায় না
শুরুতে ক্যানসার নীরব থাকে। দীর্ঘমেয়াদী কাশি, সামান্য শ্বাসকষ্ট বা অকারণে ক্লান্তি—এগুলোও সংকেত হতে পারে। লো-ডোজ সিটি স্ক্যান আগেই টিউমার শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

৩. দীর্ঘদিন কাশি মানেই সংক্রমণ
যদি কাশি তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, রক্ত দেখা দেয় বা ওজন কমে, দেরি না করে পরীক্ষা করা জরুরি। এক্স-রেতে টিউমার সবসময় ধরা পড়ে না, তাই ব্রঙ্কোস্কপি বা সিটি স্ক্যান প্রয়োজন হতে পারে।

৪. ফুসফুসের ক্যানসারের ভালো চিকিৎসা নেই
বর্তমান চিকিৎসা অনেক উন্নত। টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও প্রিসিশন মেডিসিন রোগীর জেনেটিক তথ্য অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করে। মিনিমালি ইনভেসিভ ও রোবটিক সার্জারি দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

৫. এটি শুধু বয়স্কদের রোগ
বয়স বেশি হলে ঝুঁকি বাড়ে ঠিকই, কিন্তু তরুণরাও নিরাপদ নয়। জেনেটিক কারণ, দূষণ বা ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শ তরুণদের মধ্যেও রোগ তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ফুসফুসের ক্যানসার যত দ্রুত শনাক্ত হয়, চিকিৎসার ফল তত ভালো হয়। কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অকারণে ক্লান্তি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। ধূমপান, দূষণ ও জেনেটিক ঝুঁকি থাকলে সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সবচেয়ে সহজ সুরক্ষা।

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন