১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার
১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জবি বাস সংকটে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভোগান্তি

শেয়ার করুন

ভূমিকম্প–পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রী হল আজ থেকে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে আটটায় সাতটি বিভাগীয় শহরের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৬টি বাস ছাড়ে। তবে এই বাসগুলোর বেশির ভাগেই জায়গা হয়নি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর। অনেক বাস ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি যাত্রী নিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বাসের সামনে দীর্ঘ সারি। আসনসংখ্যার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ওঠায় বহু শিক্ষার্থী বাসে উঠতে পারেনি। অপেক্ষা করেও সিট না পেয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী ফিরে যেতে বাধ্য হয়। কেউ কেউ আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে জায়গা না পেয়ে নিজের খরচে দূরপাল্লার বাসের টিকিট কেটে বাড়ির পথে রওনা দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের তথ্যানুসারে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে রংপুর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলের জন্য মোট ১৬টি বাস বরাদ্দ ছিল।

রাজশাহীমুখী বাস না পেয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন সুলতান বলেন, “আমাদের বিভাগের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী যেতে পারেনি। সিট বরাদ্দে মেয়েদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আরও বাস থাকলে সমস্যা কম হতো।”

অতিরিক্ত বাসের দাবির বিষয়ে পরিবহন পরিচালক ড. তারেক বিন আতিক বলেন, “ইতোমধ্যে ১৬টি বাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও বাস দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যাতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কম হয়।”

এদিকে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজস্ব অর্থায়নে দূরপাল্লার বাসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। ছাত্রদল রংপুর ও রাজশাহীর জন্য ২টি বাসের ঘোষণা দেয়। ছাত্রশিবির সাতটি বিভাগের জন্য ৭টি বাস ম্যানেজ করে বলে জানায়। তবে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক সংগঠনের এ উদ্যোগে অনুমতি দেয়নি।

জবি শাখা শিবিরের সভাপতি মো. রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বাসের ব্যবস্থা করলেও নির্বাচন কমিশন অনুমোদন দেয়নি। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. মোস্তফা হাসান বলেন, “রাজনৈতিক সংগঠন নির্বাচনের আগে এ ধরনের বাস সার্ভিস দিতে পারে না, তাই অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন