
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কুমিল্লা–মিরপুর সড়কের পাশের ঝোপে দেখা মিলেছে অনিন্দ্যসুন্দর জংলাবিড়া প্রজাপতির। বাদামি রঙের নকশাখচিত ডানার ওড়াউড়িতে সড়কের পাশের প্রকৃতি রঙিন হয়ে ওঠে। ঝোপের পাতায়, স্যাঁতসেঁতে প্রাচীরে ও শুকনো পাতার ওপর বারবার বসতে দেখা যায় প্রজাপতিগুলোকে। তাদের ডানার আলপনা শিল্পীর তুলির আঁচড়ের মতো সৌন্দর্য ছড়াচ্ছিল।
জংলাবিড়ার পরিচয়
মাইক্যালেসিস পারসিয়াস বৈজ্ঞানিক নামের এই প্রজাপতি লিমফ্যালিডি গোত্রের স্যাটাইরিনি উপগোত্রভুক্ত। গাঢ় বাদামি রঙের জন্য এদের ‘বুশব্রাউন’ নামেও ডাকা হয়। প্রথম শনাক্ত করা হয় ১৭৭৫ সালে, আর বর্ণনা দেন ডেনমার্কের পোকাবিশারদ জন ক্রিস্টিয়ান ফ্যাবরিসিয়াস।
বিস্তৃতি
এই প্রজাতির প্রজাপতি পাওয়া যায়—
ভারতীয় উপমহাদেশ, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, মায়ানমারসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা অঞ্চলে।
সদৃশ তিন প্রজাতি
জংলাবিড়াকে গুলিয়ে ফেলার আশঙ্কা থাকে খয়রাবিড়া, তাঁতরাবিড়া ও হোয়াইট-লাইন বুশব্রাউন প্রজাতির সঙ্গে। তবে জংলাবিড়ার পেছনের ডানার চক্ষুবিন্দুর শেষটি অন্যদের মতো একই সরলরেখায় থাকে না—এটাই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
শারীরিক গঠন
-
ডানা প্রসারিত অবস্থায় দৈর্ঘ্য ৩৮–৫৫ মিমি
-
ডানার রং কালচে বা কালচে বাদামি
-
সামনের ডানায় সাদা তারাবিন্দু
-
স্ত্রী প্রজাপতির চন্দ্রবিন্দু পুরুষের তুলনায় বড়
ডানার নিচের অংশ বাদামি, হালকা বেগুনি আভাযুক্ত ও তীর্যক দাগে ছাওয়া।
আচরণ ও পরিবেশ
জংলাবিড়া খুব ভালো উড়তে পারে না; ধীরস্থিরভাবে ঝাঁকি দিয়ে ওড়ে। এরা—
-
মাটির কাছাকাছি ওড়াউড়ি করে
-
পাতায়, ডালে বা শুকনো পাতার ওপর বিশ্রাম নেয়
-
সকাল, বিকেল ও সন্ধ্যায় সবচেয়ে সক্রিয় থাকে
এদের বেশি দেখা যায় আমবাগান, বাঁশঝাড় ও ঘন ঝোপঝাড়ে।
খাদ্য ও জীবনচক্র
-
পশু–পাখির বিষ্ঠা
-
পচা ফল
-
ভিজেমাটি
-
স্যাঁতসেঁতে পাথর–দেয়াল
ডিম ময়লাটে সাদা। শূককীট খয়েরি রঙের এবং বিভিন্ন ঘাস খেয়ে বাঁচে। ঘাস পুরো খেয়ে ফেলে না; অল্প খেয়েই অন্য ঘাসে যায়। মুককীটের রং সবুজ ও হলুদ বিন্দুযুক্ত। ৩–৪ সপ্তাহে পূর্ণ প্রজাপতিতে রূপান্তরিত হয়।
বিশেষজ্ঞের মত
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন—
“জংলাবিড়া প্রজাপতি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। বন্ধ ডানায় দেখে মনে হবে শিল্পীর আঁকা আলপনা। এরা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এদের লার্ভা ফসলের কচি পাতা খেয়ে ক্ষতি করতে পারে।”
সিএনআই/২৫