১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার
১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্রিজে রাখা ভাত কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? জানালেন বিশেষজ্ঞরা

শেয়ার করুন
side view of a plate with cooked rice with parsley on the table

ভাত বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের খাবারে অপরিহার্য উপাদান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এক নতুন ধারণা—রান্না করা ভাত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে পরে গরম করে খেলে তা নাকি বেশি স্বাস্থ্যকর। অনেকের কাছে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও, পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা বলছেন—এই ধারণার পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক যুক্তি

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্না করা ভাত ঠান্ডা করলে তার কিছু ডাইজেস্টেবল স্টার্চ ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’-এ রূপান্তরিত হয়। এই রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ এক ধরনের আঁশের মতো কাজ করে, যা শরীরে পুরোপুরি হজম হয় না। ফলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ে।

ভারতের পুষ্টিবিদ রাশি চাহাল বলেন, “রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ শরীরে গ্লুকোজের শোষণ ধীর করে, তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক হতে পারে।”

ডা. মনোজ আগারওয়াল বলেন, “এই প্রক্রিয়ায় ভাতের মোট স্টার্চ কমে না, তবে এর ধরন পরিবর্তিত হয়। ফলে হঠাৎ রক্তে শর্করার বৃদ্ধি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।”

গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা করে পরে গরম করা ভাত খেলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভাত রান্নার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখতে হবে এবং খাওয়ার আগে ভালোভাবে গরম করতে হবে। কারণ ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে এতে ব্যাসিলাস সেরিয়াস নামের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।

রাশি চাহালের মতে, রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ কেবল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এটি প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে, উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে, প্রদাহ কমায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে—যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক

সবশেষে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠান্ডা করে গরম করা ভাত কোনো অলৌকিক চিকিৎসা নয়, বরং এটি একটি স্মার্ট খাদ্যাভ্যাস। যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন বা স্বাস্থ্য সচেতনভাবে ভাত খেতে চান, তারা এই পদ্ধতি একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তবে যেকোনো পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ

সিএনআই/২৫

শেয়ার করুন