২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার
১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোগ থেকে মুক্তির জন্য আইয়ুব আ. যে দোয়া করেছিলেন

শেয়ার করুন

হজরত আইয়ুব (আ.) এর ধৈর্য ও আল্লাহর রহমত

হজরত আইয়ুব (আ.) ছিলেন এক ধনাঢ্য, সম্ভ্রান্ত এবং সৎ নবী। আল্লাহ তাঁকে প্রচুর ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি এবং মর্যাদা দিয়েছিলেন। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁকে পরীক্ষায় ফেলেন। তাঁর সম্পদ, সন্তান-সন্ততি এবং শারীরিক সুস্থতা সবই আল্লাহ নিয়ে নেন।

শারীরিক রোগ ও ধৈর্যের পরীক্ষা:

আইয়ুব (আ.) এমন এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হন, যা তাঁর পুরো শরীরকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।

শরীর থেকে মাংস খসে পড়তে থাকে এবং কীট-পতঙ্গ তাঁর দেহে ঘোরাফেরা করত।

তবুও তাঁর হৃদয় এবং জিহ্বা অক্ষত ছিল, যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহকে স্মরণ করতেন।

রোগ এতটাই বাড়ে যে, মানুষজন তাঁকে সমাজ থেকে দূরে রাখত। কিন্তু তাঁর স্ত্রী এই কঠিন সময়ে সেবা করে পাশে ছিলেন।

আইয়ুব (আ.) এর দোয়া:

এই কঠিন পরীক্ষার মাঝেও আইয়ুব (আ.) আল্লাহর প্রশংসা করা বন্ধ করেননি। অবশেষে তিনি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত বিনয়ীভাবে দোয়া করেন:

আরবি দোয়া:
اَنِّیۡ مَسَّنِیَ الضُّرُّ وَ اَنۡتَ اَرۡحَمُ الرّٰحِمِیۡنَ

উচ্চারণ:
আন্নী মাসসানিয়াদ দুররু ওয়াআনতা আরহামার রা-হিমীন।

অর্থ:
“আমি তো দুঃখ-কষ্টে পড়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু!” (সূরা আম্বিয়া: ৮৩)

দোয়ার বিশেষত্ব:

এই দোয়া ছিল অত্যন্ত নম্র ও বিনয়পূর্ণ।

এতে কোনো অভিযোগ বা চাওয়া-পাওয়ার আবদার ছিল না।

কেবল আল্লাহর প্রতি আস্থা এবং তাঁর দয়ার প্রতি প্রত্যাশা ছিল।

আল্লাহর রহমত ও পুরস্কার:

আইয়ুব (আ.) এর দোয়া কবুল হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

> “আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম, তাঁর সব দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিলাম এবং তাঁকে তাঁর পরিবার ফিরিয়ে দিলাম, এমনকি তাঁদের সমতুল্য আরো দিলাম।” (সূরা আম্বিয়া: ৮৪)

 

উপদেশ ও শিক্ষা:

ধৈর্য এবং শিষ্টাচার পরীক্ষার সময়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়।

বিপদে অভিযোগ না করে আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা উচিত।

সংকটের মধ্যে আল্লাহর প্রশংসা করা এবং বিনয়ী দোয়া করা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ।

হজরত আইয়ুব (আ.) এর জীবনের ঘটনা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। বিপদে ধৈর্য ধরা, আল্লাহর প্রতি আস্থা রাখা এবং বিনয়ী দোয়া করা আমাদের ইবাদতকে আরো শুদ্ধ ও ফলপ্রসূ করে।

 

শেয়ার করুন