তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে এখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই এসি বা এয়ার কন্ডিশনার অন্যতম প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। তবে এসি কেনার পাশাপাশি সেটি ঘরের ঠিক কোন জায়গায় বসানো হচ্ছে, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই ঘরের সৌন্দর্য বা জায়গা বাঁচানোর কথা চিন্তা করে শোবার ঘরে খাটের ঠিক মাথার ওপরে এসি বসিয়ে থাকেন।
প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি চরম ভুল সিদ্ধান্ত, যা শর্ট সার্কিট থেকে শুরু করে বিষাক্ত গ্যাস লিক বা শরীরের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
খাটের ঠিক ওপরে এসি থাকলে এর ঠান্ডা বাতাস সরাসরি মানুষের মাথায় ও বুকে লাগে। দীর্ঘ সময় এভাবে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস লাগার ফলে সাইনাস, তীব্র মাথাব্যথা, সর্দি-কাশি এবং পেশিতে টানের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া এসির ঠিক নিচে খাট থাকলে নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করার সময় ধুলাবালি বিছানায় পড়ে এবং অনেক সময় এসি থেকে পানি চুইয়ে সরাসরি মাথায় পড়ার মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো দুর্ঘটনা ও শর্ট সার্কিট। এসির ভেতরে উচ্চ ভোল্টেজের ওয়্যারিং থাকে। কোনো কারণে যদি এসির ভেতর ইন্টারনাল শর্ট সার্কিট বা স্পার্কিং হয়, তবে আগুনের ফুলকি সরাসরি নিচের বিছানার চাদর, তোশক বা মশারির ওপর পড়ে মুহূর্তের মধ্যে বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটাতে পারে। পাশাপাশি এসি থেকে কখনো গ্যাস লিক হলে সেই রাসায়নিক মিশ্রিত বাতাস সরাসরি নাকে যাওয়ার ফলে ঘুমের মধ্যেই শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার মতো মারাত্মক বিপদ হতে পারে।
এসি লাগানোর আদর্শ নিয়ম হলো এটিকে খাটের পাশের দেয়ালে অথবা পায়ের দিকের দেয়ালে স্থাপন করা, যা খাট থেকে অন্তত ৩ থেকে ৫ ফুট দূরত্বে থাকবে। এই দূরত্বে থাকলে এসি থেকে বের হওয়া বাতাস সরাসরি গায়ে না লেগে দেয়ালে বাধা পেয়ে পুরো ঘরে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ঘরের মেঝে থেকে অন্তত ৭ থেকে ৮ ফুট উঁচুতে এসি বসানো দরকার, কারণ ঠান্ডা বাতাস ভারী হওয়ায় তা ওপর থেকে নিচের দিকে নেমে আসে।
রাতে ঘুমানোর সময় এসির ‘সুইং মোড’ চালু রাখলে বাতাস এক জায়গায় আটকে না থেকে পুরো ঘরে খেলে বেড়ায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এছাড়া এসির উইন্ড ব্লেডগুলো কিছুটা ওপরের দিকে বা দেয়ালের দিকে বাঁকিয়ে রাখলে বাতাস সরাসরি নিচে শরীরের ওপর না পড়ে দেয়াল ঘেঁষে নামবে, ফলে সব ধরনের ঝুঁকি ও শারীরিক অসুস্থতার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।