ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বৈঠকের পরও কোনো সমঝোতা বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি উভয় দিকেই অবাধ নৌযান চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে এবং সেখানে পাতা সব মাইন অপসারণ ও ধ্বংস করতে হবে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় ব্যবহৃত এই কক্ষে বৈঠকের আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করছে না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকের (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) খসড়ায় একমত হয়েছিল। তবে সেটি কার্যকর হতে ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুমোদন প্রয়োজন। প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল এমন চুক্তিতেই সম্মত হবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং তার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবে। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।’
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গতকাল শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নিতে তিনি প্রস্তুত। এর ফলে সেখানে আটকে থাকা জাহাজগুলো নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবে।
এ ছাড়া তিনি দাবি করেন, ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যাতে তা অপসারণ ও ধ্বংস করা যায়।
ট্রাম্প বলেন, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। তবে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।’
পরে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেন যে সিচুয়েশন রুমের বৈঠক শেষ হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে ‘সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ’ রয়েছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংসের কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান। পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা চলছে না।’
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ এবং বিদ্যমান মজুত সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানিয়ে আসছে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এসব উপকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হতে পারে।
তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচকরা এখনো কয়েকটি ভাষাগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, যার মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুও রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাইনি, তবে খুব কাছাকাছি আছি। আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগও একে অপরের বিরুদ্ধে তুলেছে দুই দেশ। সূত্র: বিবিসি।