আব্দুল্লাহ ওমায়ের অন্তু, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি। রোববার (২৪ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছালে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। পরে উপাচার্যের কার্যালয় সংলগ্ন কনফারেন্স কক্ষে আইনমন্ত্রীর সম্মানে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় উপাচার্য অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ স্মারক ও ‘জুলাই ২০২৪ প্রকাশনা’ উপহার দেন। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, একাডেমিক কার্যক্রম ও চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখান থেকে আন্তর্জাতিক মানের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সরকারের জনবান্ধব ও কৃচ্ছ্রসাধনমূলক নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান সরকার জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনায় কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে ব্যয় কমিয়েছেন, এমনকি সংসদ সদস্যদের ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি ও প্লট সুবিধা বন্ধের মতো সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। এসব ইতিবাচক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।”
বক্তব্যের শেষাংশে বহুল আলোচিত ‘রামিসা হত্যা’ মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, “মাননীয় মন্ত্রীর উপস্থিতি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের দিকনির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।”
সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, আগামীতে ত্রিশালের সুতিয়া নদীর দুই পাড়কে আকর্ষণীয় পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে এবং তা উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীকে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।