মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার পৌরসভার সৈয়ারপুর এলাকায় এক নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত স্বর্ণের চেইনও উদ্ধার করা হয়েছে।
১. জাহাঙ্গীর আলম [৪২] ওরফে মরা জাহাঙ্গীর, পিতা আফতাব মিয়া, সাং পূর্ব ছিরামপুর, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।
২. আকমল হোসেন [৩৯], পিতা মো. আবুল হোসেন, সাং চান্দাই, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ মে ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৫টা ৩৮ মিনিটে ভিকটিম তার সন্তানসহ অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন। মৌলভীবাজার শহরের সৈয়ারপুর লক্ষীবালা স্কুল রোডের কালী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে একটি লাল রঙের মোটরসাইকেলে আসা তিন ছিনতাইকারী অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের গলায় থাকা আনুমানিক ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। চেইনটির বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
সংবাদ পেয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে সিলেট জেলা ও মহানগর এলাকায় টানা তিন দিন অভিযান চালানো হয়।
গত ২১ মে ২০২৬ সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানার কুশিঘাট এলাকা থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকমল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শিববাড়ী এলাকার একটি স্বর্ণের দোকান থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়।
মোটরসাইকেলযোগে সিলেট মহানগর থেকে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে এসে নারীদের অনুসরণ করত। নির্জন স্থান বুঝে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেত। মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, বড়লেখা ও কুলাউড়া এলাকায় এ চক্রের সক্রিয়তা ছিল।
এছাড়া গত ১০ জুন ২০২৫ মৌলভীবাজার শহরের বেরীরপাড় এলাকায় সংঘটিত অনুরূপ একটি ছিনতাই মামলার সঙ্গেও একই চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, আসামি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে মরা জাহাঙ্গীর পূর্বে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত ডাকাতি, অস্ত্র, দ্রুত বিচার ও দস্যুতা মামলায় ১৫ বছরের বেশি সময় কারাভোগ করেছে।
মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার [সদর সার্কেল] আবুল খায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই রিপটন পুরকায়স্থ, এসআই হীরণ কুমার বিশ্বাস, এসআই জয়ন্ত সরকার, এএসআই রানা মিয়া, এএসআই সাইদুর রহমান এবং কনস্টেবল পিন্টু চন্দ্র শীলসহ একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।