সাভারের আশুলিয়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ১০ বছর আগে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার দায়ে মো. রেজাউল করিম মাদবর নামে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) ঢাকার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ আসামির মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন। তাই তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর আদালতের নাজির সুমন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ৮ বছরের এক মেয়েকে নিয়ে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় থাকতো রেজাউল এবং তার স্ত্রী সিমা আক্তার। সিমা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। তবে রেজাউল কোনো কাজ করতো না। কাজের কথা বললে স্ত্রীকে মারধর করতো রেজাউল। ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল ভোর ৫টার দিকে এ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়। রেজাউল সিমাকে মাথায় আঘাত ও গলা কেটে হত্যা করে। পালানোর সময় বাড়ির মালিক আফাজ উদ্দিনের সহায়তায় স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় সীমা আক্তারের বাবা জাহিদুল ইসলাম আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় রেজাউল। মামলাটি তদন্ত করে আশুলিয়া থানার এসআই ওমর ফারুক ওই বছরের ৩১ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি মামলায় চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়ের বিরুদ্ধে আসামি আগামী ৭ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন বলে আদালত জানিয়েছেন।