যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটি মনে করছে, যুদ্ধের পথে না গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানই ‘বেশি বুদ্ধিদীপ্ত’ পথ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় তেহরানের এই অবস্থান সামনে এলো। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে-এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত।’ তবে সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সব পথই এখনো খোলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। সূত্র: আল জাজিরা।
তেহরানের এমন মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এবং মধ্যস্থতাকারী আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি না হলেও দুই পক্ষই আলোচনার চ্যানেল পুরোপুরি বন্ধ করেনি।
সব মিলিয়ে ইরান আবারো পরিষ্কার করেছে-চাপে পড়ে তারা কোনো শর্ত মেনে নেবে না, তবে সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানকেই এখনো বেশি যুক্তিসঙ্গত পথ হিসেবে দেখছে।
ইরান এও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব তারা পর্যালোচনা করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভাষা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘ইরানের ১৪ দফা মূল প্রস্তাবের ভিত্তিতে কয়েক দফায় বার্তা বিনিময় হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মার্কিন পক্ষের মতামত পেয়েছি এবং সেগুলো পর্যালোচনা করছি।’
নতুন অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুমকির মধ্যে ইরান জানিয়েছে, তারা এমন কিছু উন্নত অস্ত্র তৈরি করেছে, যেগুলো এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার বা পরীক্ষা করা হয়নি।
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরআইএ নোভোস্তিকে এক ইরানি সামরিক সূত্র জানায়, ‘আমরা দেশে তৈরি আধুনিক অস্ত্র তৈরি করেছি, যেগুলো এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করা হয়নি।’
সূত্রটি আরও দাবি করে, সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা মোকাবিলায় তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত। তাদের ভাষায়, সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দিক তাদের কোনো ঘাটতি নেই। এবার তারা সংযমের নীতি অনুসরণ করার পরিকল্পনা করছে না।