বুটেক্স প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) স্পোর্টস ক্লাবের উদ্যোগে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘আসুটেক্স প্রেজেন্টস অ্যালামনাই সুপার কাপ’ টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে টাইব্রেকারে ‘টিম ৩৯’–কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ‘ব্লেজ ৪১’।
শনিবার (১৬ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জি এম এ জি ওসমানী হল মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচজুড়ে উভয় দল একাধিক আক্রমণ চালালেও শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্রয়ে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ সামলে জয় নিশ্চিত করে ‘ব্লেজ ৪১’।
ফাইনালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ব্লেজ ৪১–এর নাফিস আহমেদ ম্যাচসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
এবারের টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে মোট ১১টি দল অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী দলগুলো হলো— ফোরটি সিক্স, টুয়েন্টি সিক্সথ টাইটানস, ফোর্ট্রেস ৪২, বুটেক্স নেট ব্রেকার্স, নবমাত্রিক ৪৩, রয়্যাল ৩৮, ওল্ড বয়েজ বুটেক্স, টিম ৩৯, ব্লেজ ৪১, এল প্রফেসরস এবং হুনান হাইস্কাই–৪৪এফটি।
ফাইনাল শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। তিনি বলেন, “এই টুর্নামেন্টটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও সবাই এমন আয়োজনে অংশ নিয়ে আনন্দ উপভোগ করেছেন।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টসের (আইটিইটি) সদ্য বিদায়ী সদস্যসচিব প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, “বুটেক্সের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো অ্যালামনাইদের নিয়ে এত বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ একটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। টুর্নামেন্টে এবার মোট ১১টি দল অংশ নিয়েছিল। একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে আমি আশা প্রকাশ করি, প্রতি বছর বিশেষ করে শীতকালে যেন এই টুর্নামেন্টের আয়োজন অব্যাহত রাখা হয়। আগামীতে যেন দলের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৮ থেকে ২০টি টিম এতে অংশ নিতে পারে, সেই প্রত্যাশাও রইল। সবশেষে, এই সফল আয়োজনের পেছনে থাকা স্পন্সরদের এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য বুটেক্স স্পোর্টস ক্লাবকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বুটেক্স স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি শাহরিয়া সুলতান রুপন বলেন, “বুটেক্সে যেকোনো বড় আয়োজনের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো স্পন্সর ম্যানেজ করা। সিনিয়রদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ না থাকলে এটি অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চেয়েছিলাম এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে, যার মাধ্যমে অ্যালামনাই ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও ভালো যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং গড়ে ওঠে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ব্যাচগুলো যেন একই সমস্যার মুখোমুখি না হয়, সেটিও আমাদের ভাবনায় ছিল। সেই চিন্তা থেকেই বিভিন্ন সিনিয়র ব্যাচের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের ইতিবাচক সাড়া, পরামর্শ ও সহযোগিতার ভিত্তিতেই এই টুর্নামেন্ট আয়োজন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন নিয়মিত করার আশা রাখছি।”