বর্তমানে রাজনীতি সঠিক ধারায় নেই, তাই সাংবাদিকতাও সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, রাজনীতি সঠিক পথে না থাকলে সাংবাদিকতাও সঠিকভাবে পরিচালিত হবে না।
শনিবার (২ মে) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মতিউর রহমান এসব বলেন।
নোয়াব সভাপতি বলেন, এ ৫৪ বছরের ইতিহাস আমার চোখের সামনের ঘটনা। এ পুরো সময়জুড়ে সাংবাদিকতা করছি। রাজনীতিবিদরা যখন ক্ষমতার বাইরে থাকেন তখন তারা একরকম। আর ক্ষমতায় গেলেই তারা পরিবর্তন হয়ে যায়।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এখনো আমরা স্বাধীনতার পক্ষে কে, বিপক্ষে কে—এ নিয়েই লড়াই করছি। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন দেশ খুব কমই আছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হয়েছে; সেখানে এখন আর কে জাতির পিতা—তা নিয়ে বিতর্ক শোনা যায় না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে এ বিতর্ক চলছেই।’
প্রবীন এই সাংবাদিক বলেন, ‘আমি সংসদের যে চেহারা দেখছি, সেখানে সাত মিনিটের বক্তব্যেও শুধু প্রশংসায় ভরে থাকে। যতদিন এ অতিরিক্ত প্রশংসার সংস্কৃতি থাকবে, ততদিন পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। এখন তারা প্রশংসা খুব পছন্দ করছেন, আমরাও লিখছি। কিন্তু দুদিন পর যখন আমরা সমালোচনা করব, তখন তারা আমাদের শত্রু ভাববেন—এটা যেন না হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস এলেও এখনো আমাদের হাত-পা পুরোপুরি খোলা নয় মন্তব্য করেন মতিউর রহমান বলেন, ‘গণমাধ্যম স্বাধীনতার সূচকে আমাদের অবস্থান ১৪৯ থেকে ১৫২-এর মধ্যে ঘোরা-ফেরা করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কেন পারছি না? সাংবাদিকতা কেন এ অবস্থায় এসেছে? এর মূল কারণ অনুগত সাংবাদিকতা। বিগত সরকারের সময় অনুগত সাংবাদিকতার পরিণতি আমরা দেখেছি। তাদের কেউ জেলে গেছেন, কেউ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, কেউ পলাতক, আবার কেউ চাকরি হারিয়েছেন।’
মতিউর রহমান বলেন, পালাবদলের পরও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। শুধু অপছন্দের কারণে কোনো পত্রিকার সম্পাদককে দুদিন পর সরিয়ে অন্য কাউকে বসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা মুক্ত ও সুস্থ সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে নোয়াব সভাপতি বলেন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব, আপনারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। অনুগত সাংবাদিক তৈরি করবেন না—এতে আপনাদের যেমন ক্ষতি হবে, তেমনি আমাদেরও ক্ষতি হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আরো ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দীন আহমেদ ও বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ। এছাড়া নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীরাও অংশ নেন।