আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই অনৈতিক বা পক্ষপাতদুষ্ট বিচার ব্যবস্থা মেনে নেবে না। আমরা বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চাই এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বন্ধে কাজ করছি।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও সুপ্রিম কোর্ট তার নিজস্ব স্বকীয়তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বিগত সরকারের সময় বিচার বিভাগের একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে চলে গিয়েছিল, যা জনগণের আস্থাকে দুর্বল করেছে।
তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পৃথক বিচার বিভাগ সচিবালয় আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম কমিশন আইন এবং জুলাই সনদ আইন। এসব আইন সংসদে উপস্থাপনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হবে।
মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের কিছু অংশ নিয়েও বিতর্ক আছে। তিনি জানান, বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এসব বিষয় সমাধানের উদ্যোগ নেবে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা থেকে সবাইকে সরে আসতে হবে। ১৯৭১ কিংবা সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে বিভক্তি নয়, বরং জাতীয় ঐক্য জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, দেশে ক্রসফায়ার, গুম ও মিথ্যা মামলার ঘটনা বর্তমানে অনেক কমে এসেছে। সরকার জনকল্যাণে কাজ করছে এবং এই অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যশোরের বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী যশোর কোর্টকে পুনরায় সক্রিয় ও কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের বাজেট বাড়ানোর কথাও জানান তিনি, যাতে আইনজীবীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জজ মাহমুদা খানম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ অন্যান্যরা। সভায় বক্তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার এবং আইনজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।