একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে। এ উপলক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, ডিবি, সেনা ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। অপ্রীতিকর ঘটানা এড়াতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বোম ডিসপোজাল টিম। মাঠে রয়েছে সাদা পোশাকের গোয়েন্দারা।
জানা গেছে, এবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা জানানোর পর সবার জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এরপর সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানাবেন। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরায় ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সাত জায়গায় দেওয়া হবে ট্রাফিক ডাইভারশন।
এদিকে ডিএমপি জানিয়েছে, পুরো শহরে এবার একুশের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। আরও থাকবে বোম ডিসপোজাল টিম ও সাদা পোশাকের সদস্যরা। এ ছাড়াও র্যাবের ৬৪টি সিসি ক্যামেরা কড়া নজরদারি করছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সকালে ডিএমপি কমিশনার ও র্যাবের ডিবি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। এবার একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই বলে তারা জানিয়েছেন।
সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে কাউকে আর প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পুরো এলাকায় নজরদারি করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এবার অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি সেনা সদস্যরাও শহীদ মিনারের নিরাপত্তায় কাজ করছেন।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বলেছেন, নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবুও ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। ঢাকায় অমর একুশের নিরাপত্তায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরো ঢাকায় থাকবে।
র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান বলেন, সকল ধরনের ব্যবস্থাই রেখেছি। অন্যান্য সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাপিড অকশন ব্যাটালিয়ান ফোর্স এখানে মোতায়েন করা হয়েছে। ইনার প্যারামিটার, আউটার প্যারামিটারে আমাদের ফোর্স আছে এবং আমরা কয়েকটা সেক্টরে ভাগ করেছি। প্রত্যেকটা সেক্টরেই আমাদের ফুড পেট্রোল, গাড়ির পেট্রোল এবং স্ট্রাইকিং রিজার্ভ থাকবে।
এদিকে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসতে চাওয়া কেউ কোনো ধরনের ধারালো বস্তু বা দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে না আসার জন্য বলা হয়েছে। রাত সাড়ে ১২টার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সবার জন্য উম্মুক্ত করা হবে।