আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে, ১৯ শতাংশ মানুষ জামায়াতকে এবং নতুন দল এনসিপিকে (জাতীয় নাগরিক পার্টি) ২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে চান বলে এক জরিপ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ৬০ শতাংশও এবার ধানের শীষে ভোট দিতে আগ্রহী বলেও জানা গেছে।
বেসরকারি সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) এই জনমত জরিপ চালায়। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটে কেআইবি মিলনায়তনে জরিপের ফল তুলে ধরেন ইএএসডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার।
সংস্থাটি জানায়, দেশের ৩০০ সংসদীয় আসন থেকে সশরীরে মোট ২০ হাজার ৪৯৫ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপ কার্যক্রম চলে ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত।
চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে বিএনপির প্রতি সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ সমর্থন মিলেছে। তবে বরিশাল ও খুলনায় জামায়াত তুলনামূলক এগিয়ে। বরিশালে ২৯ শতাংশ ও খুলনায় ২৫ শতাংশ মানুষ জামায়াতকে ভোট দিতে আগ্রহী। এদিকে উত্তরবঙ্গের রংপুর অঞ্চলে জাতীয় পার্টি ৫.২ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে, যা অন্য বিভাগের তুলনায় বেশি। জাতীয় পার্টির সার্বিক সমর্থন ১.৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সমর্থন ০.১ শতাংশ।
জরিপ প্রতিবেদন বলছে, ‘নির্বাচনের পর কোন দল সরকার গঠন করবে’ প্রশ্নে ৭৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিএনপি সরকার গঠন করবে। ১৭ শতাংশ মনে করেন জামায়াত সরকার গঠন করতে পারে। এনসিপির সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথা বলেছেন ১ শতাংশের কিছু বেশি মানুষ।
‘আগামী নির্বাচনে কে জিতবে’ প্রশ্নে ৭৪ শতাংশ বিশ্বাস করেন, তাদের নিজ নিজ আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হবেন। ১৮ শতাংশ মনে করেন জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। ১.৭ শতাংশ মনে করেন এনসিপি প্রার্থী জিতবেন এবং ১ শতাংশের কিছু বেশি মনে করেন জাতীয় পার্টি জয়ী হতে পারে।
জরিপে আওয়ামী লীগের পূর্ববর্তী ভোটারদের বর্তমান রাজনৈতিক আগ্রহ বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ৬০ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দিতে চান। ২৫ শতাংশ জানিয়েছেন তারা জামায়াতকে সমর্থন দেবেন এবং ১৫ শতাংশ অন্যান্য দলকে ভোট দিতে আগ্রহী।
‘গত নির্বাচনে কাকে ভোট দিয়েছেন বা দিতে চেয়েছিলেন’ প্রশ্নে ৩৫ শতাংশ জানান, তারা বিএনপিকে ভোট দিতে চেয়েছিলেন। ২৭ শতাংশ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছেন বা দিতে চেয়েছিলেন। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ভোট দেওয়ার আগ্রহ ছিল ৫ শতাংশের কিছু বেশি মানুষের।